প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্যে গ্রীষ্মের দিনগুলো যে কোনো সময় মানুষকে চরম গরমে পড়ার সুযোগ দেয়। দুপুরে সূর্য কাঠফাটা রোদ ছড়িয়ে দিলে শরীরের জন্য তা এক ধরনের চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। বিশেষ করে যেসব মানুষ সরাসরি রোদে বের হন তারা প্রায়শই শারীরিক অস্বস্তি, ক্লান্তি, ঘামঝরা সমস্যা এবং কখনও কখনও জ্বরের মতো লক্ষণ অনুভব করেন। এই গরমের মধ্যে শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখার জন্য পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকরা সকলেরই একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন—টকদই খাওয়া।
টকদই বা দই, যা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক এবং বিভিন্ন ভিটামিনে সমৃদ্ধ, গরমের দিনে শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সেরা খাবারের তালিকায় রয়েছে। শুধু শারীরিক শক্তি বৃদ্ধিই নয়, এতে প্রোবায়োটিক থাকার কারণে অন্ত্রে সুস্থ ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়, যা হজমকে উন্নত করে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে যেসব মানুষ গরমে অতিরিক্ত ক্লান্ত বোধ করেন, টকদই তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় এনার্জি যোগায়, জলীয় উপাদান সরবরাহ করে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
দিনের যে কোনো সময়ে টকদই খাওয়া যায়। পুষ্টিবিদরা জানান, সকালবেলায় নাস্তার সময় দই খেলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন পায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকে। দুপুরের খাবারের পর হালকা কাজের সঙ্গে দই খাওয়া যেতে পারে, যা হজমে সহায়ক এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করে। বিকেলবেলায়, যদি রোদ শক্তিশালী হয়, দই বা লস্যি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও টকদই দিয়ে রায়তা, ঘোল, কার্ড রাইস ইত্যাদি তৈরী করে খেলে খাবারেও বৈচিত্র্য আসে এবং শরীরের পুষ্টি বজায় থাকে।
গরমে টকদই খাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা। এতে থাকা প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখে এবং কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ কমায়, যা ওবেসিটি বা স্থূলতার ঝুঁকি হ্রাস করে। এছাড়া অন্ত্রে সুস্থ ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির কারণে হজম প্রক্রিয়া সঠিক থাকে এবং পেটের সমস্যাও কমে। প্রোবায়োটিক উপাদান গ্যাস, অম্বল এবং অন্যান্য অন্ত্রজনিত সমস্যার প্রতিরোধে কার্যকর। একই সঙ্গে লিভারের স্বাস্থ্যও টকদই খাওয়ায় সুস্থ থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, টকদই নিয়মিত খেলে ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি কমে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এবং হৃৎপিণ্ড সম্পর্কিত সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া সর্দি, কাশি এবং ঠান্ডাজনিত অসুবিধাও কমে। ক্যালসিয়াম থাকায় হাড়ও শক্তিশালী থাকে এবং হাড় সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি কমে। ফলে গ্রীষ্মকালে টকদই খাওয়া শুধুমাত্র স্বাদ বৃদ্ধি করে না, বরং শরীরকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখে।
চিকিৎসকরা জানান, টকদই খাওয়ার সময়ও কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। অত্যধিক ঠান্ডা দই সরাসরি খেলে কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই গরম বা রুম টেম্পারেচারে টকদই খাওয়া ভালো। এছাড়া টকদইকে অন্যান্য পুষ্টিকর উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে যেমন ফল, বাদাম বা লস্যি তৈরি করলে শরীরের জন্য অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়া যায় এবং এটি গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
গরমের দিনে টকদই খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ হয়। যারা অতিরিক্ত ঘামেন বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর। পুষ্টিবিদরা বলছেন, প্রতিদিনের খাবারে টকদই রাখলে গরমের দিনে শক্তি বজায় থাকে, হজম সঠিক থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই গ্রীষ্মের দিনে টকদই শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও অপরিহার্য।
এভাবে প্রতিদিনের খাবারে টকদই অন্তর্ভুক্ত করলে গরমের দিনের ক্লান্তি কমে, শরীর সতেজ থাকে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অন্ত্র ও হাড়ের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, গরমে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করলে শরীরের শারীরিক অস্বস্তি ও অসুখের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে টকদই খাওয়া একটি সহজ ও কার্যকরী উপায়, যা স্বাস্থ্য রক্ষা এবং গ্রীষ্মকালের শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।