প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলতি এপ্রিল মাসে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সারাদেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষাকালীন নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে পরীক্ষার দিন প্রতিটি কেন্দ্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ বিষয়ে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখা থেকে একটি চিঠি জারি করা হয়েছে, যেখানে পরীক্ষাকালীন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি বিবেচনায় রেখে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে বড় পরিসরে পরীক্ষার্থীরা অংশ নেবে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা না গেলে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। তাই প্রতিটি কেন্দ্রে একজন বা একাধিক চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তারিখে। এই চারদিনে পার্বত্য তিন জেলা ব্যতীত দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। একইভাবে পার্বত্য অঞ্চল রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় আলাদা সময়সূচিতে ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ের এই বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থী এই পরীক্ষার মাধ্যমে বৃত্তি অর্জনের সুযোগ পায়, যা তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নিরাপদ আয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের নির্দেশনার মাধ্যমে মূলত একটি সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পরীক্ষার মতো মানসিক চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার হলে অবস্থান, গরম আবহাওয়া কিংবা মানসিক উদ্বেগের কারণে মাথা ঘোরা, রক্তচাপজনিত সমস্যা বা সাধারণ অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকলে তা বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে না, বরং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে। পরীক্ষার হলে একটি নিরাপদ পরিবেশ থাকলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে স্বস্তি পায় এবং তারা আরও ভালোভাবে মনোযোগ দিতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে অভিভাবকরাও সন্তুষ্ট থাকেন যে তাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা দিচ্ছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং নিকটস্থ হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা চলাকালীন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ। তাই এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-কে কেন্দ্র করে নেওয়া এই প্রস্তুতি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সংগঠিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত অংশগ্রহণে একটি সফল ও সুশৃঙ্খল পরীক্ষা আয়োজনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।