টেস্ট ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ: ভারতকে উপেক্ষা করে ইংল্যান্ডকেই ফের বেছে নিল আইসিসি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৮ বার

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিশ্ব ক্রিকেটে পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে নেওয়ার পর ভারত নানা আন্তর্জাতিক আসরের আয়োজক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা দেখিয়ে আসছে। বিশেষ করে দেশের মাটিতে বড় বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করে সফলতার গল্পও গড়েছে বিসিসিআই। তবে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল আয়োজন নিয়ে ভারতের করা আবেদন এবার প্রত্যাখ্যান করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

২০২৭, ২০২৯ এবং ২০৩১—এই তিন আসরের ফাইনাল আয়োজনের জন্য ভারতের আবেদন ছিল অত্যন্ত আগ্রহভরে ও পরিকল্পনামাফিক। কিন্তু আইসিসির সাম্প্রতিক ঘোষণায় দেখা যায়, তারা আবারও ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ওপর আস্থা রেখেছে। এর ফলে টানা ছয়টি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের আয়োজক রইল ইংল্যান্ড।

আইসিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইংল্যান্ডে এর আগের তিনটি ফাইনালের সফল আয়োজন এবং টেস্ট ক্রিকেটে সেখানে দর্শক আগ্রহ বিবেচনায় নিয়ে ইংল্যান্ডকে পরবর্তী তিন আসরের আয়োজক নির্বাচিত করা হয়েছে।”

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালে। প্রথম আসরের ফাইনাল ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাউদাম্পটনে, যেখানে নিউজিল্যান্ড ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। এরপর ২০২৩ সালে ওভাল এবং ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত লর্ডস—সব ক্ষেত্রেই ইংল্যান্ড ছিল আয়োজক। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেই ২০২৭, ২০২৯ ও ২০৩১ সালের ফাইনালের আয়োজক হিসেবে আবারও তাদের নাম ঘোষণা করা হলো।

এ সিদ্ধান্তে ক্রিকেটপ্রেমী ভারতীয়দের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে। কারণ, বিসিসিআই ইতিমধ্যেই ভারতে টেস্টের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, এবং তারা চেয়েছিল এই মর্যাদাপূর্ণ ফাইনাল আয়োজনে নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে।

তবে আইসিসির সিদ্ধান্ত যে একেবারে হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি, সেটি বোঝা যায় ইসিবির প্রতিক্রিয়া থেকেই। ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড বলেন, “আবারও আমরা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ পেলাম—এটা আমাদের জন্য বিশাল সম্মান এবং গর্বের। এই আয়োজন শুধু ইংল্যান্ডের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরও প্রতিচ্ছবি। আমরা আইসিসির সঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতের ফাইনালগুলোকে আরও আকর্ষণীয় এবং স্মরণীয় করে তোলার চেষ্টা করব।”

ইংল্যান্ডের আবহাওয়া, ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম এবং টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি দর্শকদের আবেগ, সেই সঙ্গে ধারাবাহিক সংগঠনের দক্ষতা আইসিসির সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ভারত চেয়েছিল দেশের নতুন নতুন ভেন্যু, আধুনিক অবকাঠামো এবং ব্যাপক দর্শক সমর্থনের কারণে আয়োজকের দায়িত্ব পেতে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতির এই খেলায় আপাতত ভারতকে দ্বিতীয় সারিতে থেকেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

যদিও ফাইনালের নির্দিষ্ট ভেন্যুগুলো এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে ধারণা করা যাচ্ছে, লর্ডস, ওভাল বা হেডিংলির মতো ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামগুলোই আবারও বিবেচনায় আসবে।

টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখার এই প্রচেষ্টায় আয়োজক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত মাত্রা বহন করে, সেটিই হয়তো নতুন করে সামনে এলো।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com