সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি, চারজন রিমান্ডে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
সিকেডি হাসপাতাল চাঁদা মামলা

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর একটি স্বনামধন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত কার্যক্রম। সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই ঘটনায় চিকিৎসা সেবা, নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে হাজির করা হয় মামলার চার আসামিকে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের সহযোগী হিসেবে চাঁদা দাবির ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, ফারুক হোসেন সুমন এবং মো. লিটন মিয়া।

আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. ছাব্বির আহমেদ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত এখনও চলমান। তিনি আদালতকে জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী, পলাতক আসামি এবং উস্কানিদাতাদের শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিরা ঘটনার বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য না দিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। ফলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাদের আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এসব বিবেচনায় আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যদিও আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেছিল।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আকরামুল হুদা সুমন দাবি করেন, তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তাদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। তবে উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

এই মামলার সূত্রপাত ঘটে গত ১১ এপ্রিল, যখন সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মঈন উদ্দিনকে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার দিন সকালেও মঈন ও তার সহযোগীরা বাদীর বাসার সামনে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন এবং পরে তার স্ত্রীকে সরাসরি টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। টাকা না দিলে গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন বাদীর ছোট ভাইকে বাসায় ডাকা হয় এবং ঘটনাস্থলে আরও লোক জড়ো হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল সিকেডি হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেয় এবং সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে থাকে, গালাগালি করে এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা চালায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, এই আচরণ ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং এর মাধ্যমে একটি সংবেদনশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসা সেবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের ঘটনা শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নই তোলে না, বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে শেরেবাংলা নগর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাস্থ্যখাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। কারণ এমন ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে না, বরং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়াকে অনেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সব মিলিয়ে সিকেডি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির এই অভিযোগ একটি বড় ধরনের সামাজিক ও আইনগত ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। এটি শুধু একটি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের চিকিৎসা সেবা খাতের নিরাপত্তা, সুশাসন এবং আইনের শাসনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সবার দৃষ্টি তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত