রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৭ বার
জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকায় বৈশাখী উৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে একটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই শোভাযাত্রাটি রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। বসন্ত ও বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন বলে জানা যায়।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এতে যুক্ত হন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ জীবনের নানা উপাদানকে সামনে রেখে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা উপকরণ প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল, কুলা এবং কৃষিভিত্তিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সামগ্রী ছিল উল্লেখযোগ্য। এসব উপকরণ একদিকে যেমন গ্রামীণ জীবনের স্মৃতি তুলে ধরে, অন্যদিকে তেমনি বাংলার কৃষিনির্ভর সংস্কৃতির গভীরতাকেও প্রকাশ করে।

শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের আকৃষ্ট করে। শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গান পরিবেশন করেন। এতে করে পুরো এলাকায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পথচারীরাও অনেক ক্ষেত্রে থেমে এই আয়োজন উপভোগ করেন এবং মোবাইল ফোনে তা ধারণ করেন বলে দেখা যায়।

শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতির নিজস্ব একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বক্তাদের মতে, বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ নয় বরং দেশীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করাই একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তার পরিচয়কে শক্তিশালী করতে পারে।

তারা আরও বলেন, গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক চর্চার মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলে তারা মন্তব্য করেন।

আয়োজকদের দাবি, এই ধরনের শোভাযাত্রা শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, বৈশাখী উৎসব বাঙালির প্রাণের উৎসব, যা ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একটি সার্বজনীন সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবে বিবেচিত।

তবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও মতামতও দেখা যায়। কেউ কেউ এটিকে সংস্কৃতির প্রসার হিসেবে দেখলেও, আবার কেউ কেউ এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা করেন। এ বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের মূল উদ্দেশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং সমাজে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধি করা।

ঢাকার ব্যস্ত নগর জীবনের মধ্যে এই শোভাযাত্রা এক ধরনের ভিন্নমাত্রা যোগ করে। সকাল থেকেই প্রেস ক্লাব এলাকা ও আশপাশের সড়কে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। শোভাযাত্রা রমনা পার্কে পৌঁছালে সেখানে এক ধরনের মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও অংশ নেন বা উপভোগ করেন।

রমনা পার্কে এসে শোভাযাত্রাটি শেষ হলেও এর রেশ থেকে যায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে। অনেকেই এটিকে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টির একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়মিত হওয়া উচিত, যাতে লোকজ সংস্কৃতি আরও বেশি পরিচিতি পায়।

সামগ্রিকভাবে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বৈশাখী শোভাযাত্রা নগরবাসীর জন্য এক ভিন্নধর্মী সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। যদিও এর পেছনে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও আলোচনা রয়েছে, তবে এটি নিঃসন্দেহে বাংলা নববর্ষ ও দেশীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে একটি আলোচিত আয়োজন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত