ঢাকায় হামে বাড়ছে চাপ, ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশু মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার
হাম সংক্রমণ শিশু আপডেট

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে হামের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও থেমে নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবাই ঢাকার বাসিন্দা। একই সময়ে নতুন করে হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৩২ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকাতেই আক্রান্তের সংখ্যা ৫০৫ জন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬৬ শিশু, যার মধ্যে ৩১৫ জন ঢাকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৬ জন শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে ৬১ জনই রাজধানী ঢাকার, যা সংক্রমণের কেন্দ্রে ঢাকা শহরকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনঘনত্ব বেশি হওয়ায় এবং শহরে দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানোর কারণে ঢাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৬৮ শিশু। বিভাগভিত্তিক হিসেবে দেখা গেছে, বরিশাল থেকে ২৯ জন, চট্টগ্রাম থেকে ৬৯ জন, ঢাকা থেকে ২০৫ জন, খুলনা থেকে ৯৪ জন, ময়মনসিংহ থেকে ৫ জন, রাজশাহী থেকে ৪৮ জন, রংপুর থেকে ১ জন এবং সিলেট থেকে ১৭ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

এর আগের ৪৮ ঘণ্টার তথ্যেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। গত রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মাত্র একদিনে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু সরাসরি হামজনিত বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি আটজনের ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ দেখা গেলেও মৃত্যুর কারণ যাচাই করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৩২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে সরাসরি হামে। তবে উপসর্গসহ মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৬ জনে পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সময়ে ১৯ হাজার ১৬১ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ হাজার ৩১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ২ হাজার ৯৭৩ জনের হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ হাজার ৭৭২ শিশু। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সংখ্যাগতভাবে সুস্থতার হার বাড়লেও নতুন সংক্রমণের গতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বর্তমান পরিস্থিতি মূলত টিকাদানের ঘাটতি, পুষ্টিহীনতা এবং জনঘনত্বের কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় জনসংখ্যার চাপ বেশি হওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের সময়মতো টিকা না পাওয়াও বড় একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা একবার ছড়িয়ে পড়লে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের জ্বর, সর্দি, কাশি ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, হামের এই বাড়তি সংক্রমণ এখন দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত