প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নী টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৬ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শুনানি শেষ না হওয়ায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ৬ মে দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই রাজধানীর গুলশান এলাকায় ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রিও করা হয় বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গুলশান-২ এলাকার ওই ফ্ল্যাটটি নির্ধারিত নিয়ম ও মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দখল ও রেজিস্ট্রির মাধ্যমে নেওয়া হয়, যা দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তদন্ত শেষে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনসহ একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
এই মামলায় আরও একজন আসামি হিসেবে রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামানের নামও ছিল। তবে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন আদেশ ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি আবারও বিচারিক কার্যক্রমে এগিয়ে যায়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংস্থাটি মনে করে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসব মামলার অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পূর্বে দাবি করেছিলেন যে মামলাটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের মধ্যে আনা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তি যথাযথ নয়। তবে আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য আসেনি।
এদিকে মামলাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনগত মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের নাম যুক্ত থাকায় বিষয়টি জনমনে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। আগামী ৬ মে অনুষ্ঠিতব্য শুনানিকে কেন্দ্র করে পরবর্তী আইনি অগ্রগতি কী হয়, সে দিকেই নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।