রাজশাহীতে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
রাজশাহী হাম শিশুমৃত্যু বৃদ্ধি

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহীতে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও দুই শিশুর মৃত্যুতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি বৃদ্ধি এবং রোগী ছাড়পত্রের সংখ্যাও বাড়লেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ১১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। এই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২৯ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে নতুন মৃত্যু এবং চলমান ভর্তি রোগীর সংখ্যা স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুটি পাবনার সদর উপজেলার ৭ মাস বয়সী ওমর। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই মৃত্যুর ফলে শুধু রামেক হাসপাতালেই হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।

অন্যদিকে, একই সময়ে রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালেও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস বয়সী আবুল বাশার নামের শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাতে মারা যায়। দুই হাসপাতালে একদিনে দুই শিশুর মৃত্যুতে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই সংখ্যা ওঠানামা করলেও মোট রোগীর চাপ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জনে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। জ্বর, র‌্যাশ, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে অনেক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, যাদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সংক্রমণ মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অভিভাবকদের মধ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে শিশুদের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে গত কয়েকদিনে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এবং হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো টিকাদান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামের কারণে মৃত্যুহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে হাসপাতালে আসা এবং জটিলতা বাড়ার কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

রাজশাহীর সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে সংক্রমণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রস্তুতি রয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজশাহীতে হামের উপসর্গে একের পর এক শিশুর মৃত্যু এবং নতুন রোগী ভর্তির ঘটনা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত