জামায়াত জোটের নারী আসনে বাদ পড়লেন হেভিওয়েটরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৯ বার
নারী আসন মনোনয়ন তালিকা

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। তবে এই তালিকা ঘিরে যেমন নতুন মুখ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তেমনি বেশ কয়েকজন আলোচিত ও হেভিওয়েট নারী নেত্রীর বাদ পড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।

জোটের পক্ষ থেকে মোট ১৩ জন নারী প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে আটজন, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি থেকে দুজন, এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাগপা ও জুলাই শহীদ পরিবারের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন।

তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নামের অনুপস্থিতি, যা রাজনৈতিক মহলে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ডা. আমেনা বেগমের নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকাকে ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তিনি এর আগেও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এবার তার বাদ পড়া অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার জাতীয় নাগরিক পার্টির একাধিক আলোচিত নারী নেত্রীর নামও এই তালিকায় জায়গা পায়নি। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে তিনি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম না থাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

একইভাবে এনসিপির আরও দুই শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী দিলশানা পারুল ও নুসরাত তাবাসসুমের নামও বাদ পড়েছে। দলীয় জোটের ভেতরে সম্ভাব্য সমঝোতা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিবর্তন এসেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যেসব নারী মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের মধ্যে দলের মহিলা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেত্রীরা রয়েছেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের সংগঠনিক নেতৃত্বে থাকা নারীদেরও এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দলটি মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে এনসিপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া দুই নারী নেত্রী তাদের সংগঠনের নারী অধিকার আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অন্তর্ভুক্তি নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাগপা এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করাও এই তালিকার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই শহীদ পরিবারের একজন সদস্যের মনোনয়নকে রাজনৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন তালিকা শুধু ব্যক্তিগত যোগ্যতার বিষয় নয়, বরং এটি জোটগত রাজনৈতিক কৌশল ও সমীকরণের প্রতিফলন। কোথায় কোন দলকে কতটা প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হবে, সেটি এই তালিকায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে কিছু হেভিওয়েট নেত্রীর বাদ পড়া নিয়ে ভেতরে ভেতরে অস্বস্তিও তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, তাদের অনুপস্থিতি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগামী দিনে এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও বাছাই পদ্ধতি নিয়ে জোটের ভেতরে আরও আলোচনা ও মূল্যায়ন হতে পারে। কারণ সংরক্ষিত নারী আসন শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং দলীয় ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ কৌশলের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

অন্যদিকে সাধারণ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংরক্ষিত নারী আসন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নারী নেতৃত্বকে সংসদে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সুযোগ হলেও, এখানে দলীয় সমীকরণ ও জোটগত সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে এবারের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন তালিকা যেমন নতুন নেতৃত্বকে সামনে এনেছে, তেমনি কয়েকজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেত্রীর বাদ পড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই তালিকা ঘিরে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত