প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনে বরিশাল বিভাগ থেকে মোট তিনজন নারী নেত্রী মনোনয়ন পেয়েছেন। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের তালিকা অনুযায়ী এই তিনজন মনোনীত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বরিশাল অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিএনপির ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীর মধ্যে বরিশাল বিভাগ থেকে স্থান পেয়েছেন দুইজন অভিজ্ঞ ও আলোচিত নারী নেত্রী। অন্যদিকে জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে থেকে একজন নারী নেত্রী মনোনয়ন পেয়েছেন, যিনি একই সঙ্গে পেশাগত ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ।
বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া দুই নেত্রী হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং জেবা আমিন খান। এই দুই নেত্রীর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বরিশাল অঞ্চলের বিএনপি অঙ্গনে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
সেলিমা রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং এর আগে সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার পারিবারিক ইতিহাসও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার বাবা বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার। ফলে রাজনৈতিক ও পারিবারিক দুই দিক থেকেই তিনি দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ধারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। বরিশাল-৪ আসনে সরাসরি মনোনয়ন না পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনে তার মনোনয়ন দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া জেবা আমিন খানও বরিশাল বিভাগের একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রখ্যাত রাজনৈতিক পরিবার থেকে আগত। তার পিতা ব্যারিস্টার আখতার উদ্দিন আহম্মেদ ছিলেন একজন সাবেক মন্ত্রী। জেবা আমিন বিএনপির মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
তার রাজনৈতিক কর্মজীবন দীর্ঘদিনের। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত আসনে তার মনোনয়ন দলীয় অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এসেছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের তালিকা থেকেও বরিশাল বিভাগের একজন নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব এবং ‘জাতীয় নারীশক্তি’র সদস্যসচিব মাহমুদা আলম মিতু।
মাহমুদা আলম মিতুর রাজনৈতিক ও পারিবারিক পটভূমি বরিশাল-ঝালকাঠি অঞ্চলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তার পৈতৃক বাড়ি ঝালকাঠি-১ আসনের কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে। তার দাদা আমজাদ হোসেন তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। শৌলজালিয়া হাইস্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি অর্জনের পর বেতাগী ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকার শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বরিশাল বিভাগ থেকে তিনজন নারী নেত্রীর সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়া অঞ্চলটির রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও সংখ্যার দিক থেকে এটি সীমিত, তবে অভিজ্ঞ ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় এখানে একটি বৈচিত্র্য তৈরি করেছে।
অন্যদিকে বিএনপির ভেতরে দুই অভিজ্ঞ নেত্রীর অন্তর্ভুক্তি দলটির নারী নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে বরিশাল বিভাগের প্রতিনিধিত্বকে এটি আরও দৃশ্যমান করেছে।
জোটের রাজনীতিতে বরিশাল অঞ্চলের এই তিন নারী নেত্রীর উপস্থিতি ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে নারী নেতৃত্বের ভূমিকা আরও সক্রিয় করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল ধারণা করছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সংসদীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বরিশাল বিভাগের সংরক্ষিত নারী আসনে এই তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।