অ্যানিমিয়া ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন তথ্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ বার
অ্যানিমিয়া ডিমেনশিয়া ঝুঁকি

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা নিয়ে নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে আয়রনের মাত্রা দীর্ঘদিন ধরে কম থাকলে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন যে রক্তে আয়রনের ঘাটতি শুধু শারীরিক দুর্বলতাই নয়, বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। স্মৃতি, চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং যোগাযোগ দক্ষতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

তবে আয়রনের ঘাটতি সরাসরি ডিমেনশিয়ার কারণ কি না, তা নিয়ে এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বিভিন্ন গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া গেছে, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সম্প্রতি সুইডেনের গবেষকদের পরিচালিত একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব মানুষের মধ্যে অ্যানিমিয়া শনাক্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এই গবেষণাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কারণ এতে দীর্ঘ সময় ধরে একটি বড় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

গবেষণার আওতায় ৬০ বছরের বেশি বয়সী কয়েক হাজার মানুষের স্বাস্থ্যগত তথ্য প্রায় এক দশক ধরে বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যাদের দীর্ঘমেয়াদি অ্যানিমিয়ার সমস্যা ছিল, তাদের মধ্যে পরবর্তীতে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ফলাফল সরাসরি কারণ-প্রভাব সম্পর্ক প্রমাণ করে না। বরং এটি অ্যানিমিয়া এবং ডিমেনশিয়ার মধ্যে একটি সম্ভাব্য সম্পর্ক বা যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ, অ্যানিমিয়া থাকলেই যে ডিমেনশিয়া হবেই এমন নয়, তবে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়রনের ঘাটতি মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ ও স্নায়ুবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, অ্যানিমিয়া প্রতিরোধযোগ্য একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে রক্তস্বল্পতা উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, এই গবেষণা সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। কারণ অনেক সময় অ্যানিমিয়ার উপসর্গকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়া একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে, তবে নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কিছু শারীরিক অবস্থাও এই ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে।

গবেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে যদি অ্যানিমিয়া ও ডিমেনশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি রোগ প্রতিরোধে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে আগেভাগে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

সব মিলিয়ে এই গবেষণা অ্যানিমিয়া এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, তবুও স্বাস্থ্যসচেতনতার দিক থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত