মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করল ইসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
মনিরা শারমিন মনোনয়ন বাতিল

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয় বলে জানিয়েছে কমিশন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান। তিনি জানান, নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা পদত্যাগের পর নির্বাচনে অংশ নিতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান থাকতে হয়, যা মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে পূরণ হয়নি।

এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় তার প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। সেসময় তাকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে এবং পদত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্ট করতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিভিন্ন জোট ও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ১১ দলীয় জোটের ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে একটির ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা রয়েছে, যা মনিরা শারমিনের প্রার্থিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিন বছরের একটি বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে। সেই শর্ত পূরণ না হওয়ায় তার মনোনয়ন বৈধ হিসেবে গণ্য করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করে ইসি।

মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিলকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার সমর্থকরা বলছেন, এটি একটি প্রশাসনিক জটিলতা এবং পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকা উচিত। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এখানে ব্যক্তিগত কোনো বিবেচনার সুযোগ নেই।

১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বাকি প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। জোটের অন্য ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, বিএনপি জোটের জমা দেওয়া ৩৬টি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থীর মনোনয়নও গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার শেষ সময় ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে বড় জোটগুলো তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ ধরনের মনোনয়ন বাতিল ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নির্বাচনকে আরও কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক করছে বলে তারা মত দিয়েছেন।

তবে সমালোচকদের মতে, নির্বাচনী বিধিমালার ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে প্রার্থীরা শুরু থেকেই সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং শেষ মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত জটিলতায় না পড়েন।

সব মিলিয়ে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে আপিল প্রক্রিয়া ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত