৫০০ কোটি টাকা অফার অভিযোগ রিফাত রশিদ এর

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯৬ বার

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে নতুন এক বিস্ফোরক দাবি সামনে এনেছেন সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়া ছাত্রনেতা রিফাত রশিদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার জন্য তৎকালীন সরকারের এক সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ—প্রায় ৫০০ কোটি টাকা—প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সেই সময়কার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে যখন আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ গোয়েন্দা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন, তখন তাদের মাধ্যমে আন্দোলন বন্ধ করার প্রস্তাব আসে। সেই প্রস্তাবের অংশ হিসেবেই প্রত্যেককে ৫০০ কোটি টাকা করে দেওয়ার অফার দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রিফাত রশিদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সেই সময় আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের চাপ এবং প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, এসব প্রস্তাব আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের অবস্থানকে নড়াতে পারেনি। বরং তারা তাদের দাবিতে অটল ছিলেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যান। তার মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে আন্দোলনটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে সরকার থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, একটি বিশেষ মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাপ্ত অর্থের পুরো হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং তা নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। এ বিষয়ে Bangladesh Bank-এর অনুমোদিত একটি অডিট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো ব্যয়ের হিসাব পরীক্ষা করা হয় এবং সেই অডিট রিপোর্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। তাই এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম। তিনি বলেন, পুরো অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছ হিসাব তাদের কাছে রয়েছে এবং তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি কোনো অনিয়ম থাকত, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এতদিনে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নিত।

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো আন্দোলনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা। তাই এই অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণসহ সামনে না এলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তবে একইসঙ্গে এই অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় ধরনের অনৈতিক চর্চার উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।

সব মিলিয়ে, রিফাত রশিদের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ সামনে আসে কিনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে এর জবাব কীভাবে দেওয়া হয়। বিষয়টি স্পষ্ট করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ তথ্যপ্রকাশ, যা জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com