দেশের বাজারে সোনার নতুন দর কার্যকর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১ বার
সোনার দাম বাংলাদেশ বাজার

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দামে সাম্প্রতিক সমন্বয়ের পর আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত নতুন নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে মূল্যবান এই ধাতু দুটি। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনা ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়, যা একই দিন সকাল থেকেই কার্যকর হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাজারে এখনো সর্বশেষ ঘোষিত দামেই লেনদেন চলছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ দামের পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনা করে এই সমন্বয় করা হয়েছে। এতে ভরিতে সোনার দাম গড়ে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা এবং রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামা এবং ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায়।

এর আগে সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল বাজুস সোনার দাম সমন্বয় করেছিল। তখন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও বৃদ্ধি পায়। তবে সাম্প্রতিক কমানোর ফলে আবারও বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

চলতি বছর দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্য পরিবর্তনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৫৬ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৪ বার কমেছে। ২০২৫ সালেও মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা ছিল বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ডলারের মান পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশেও স্বর্ণের দাম ঘন ঘন পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা সবাই কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

অন্যদিকে, রুপার বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ সমন্বয়ের পর বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রুপার ক্ষেত্রেও চলতি বছর ৩৫ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বার দাম বৃদ্ধি এবং ১৬ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ১৩ বার সমন্বয়ের মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে, রুপার বাজারও ক্রমাগত ওঠানামার মধ্যেই রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোনা ও রুপার দামের এই অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য চাপও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ে-শাদি ও পারিবারিক প্রয়োজনে যারা স্বর্ণ কেনেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

রাজধানীর একাধিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, দাম কমার পর সামান্য ক্রেতা উপস্থিতি বেড়েছে, তবে সার্বিকভাবে বাজারে এখনো বড় ধরনের স্থিতিশীলতা আসেনি। তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা না এলে স্থানীয় বাজারেও ঘন ঘন পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের বাজার মূলত বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই শুধু দেশীয় নীতির মাধ্যমে এর দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিলে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বিশেষ করে অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বা অন্যান্য খাতের তুলনায় স্বর্ণের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। তবে দাম ঘন ঘন ওঠানামা করায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

সব মিলিয়ে দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজার এখনো বৈশ্বিক প্রভাবের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাজুসের নিয়মিত সমন্বয় নীতির কারণে বাজারে স্বচ্ছতা থাকলেও স্থিতিশীলতা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতেও এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজার পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত