মৃত্যুর মিছিলে স্কুলের শিশুরা: মাইলস্টোনে হৃদয়বিদারক দাফন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত হওয়া শিক্ষার্থীদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে শোকাবহ পরিবেশে। প্রতিটি জানাজা ও দাফনে ভারী হয়ে উঠেছিল আকাশ-বাতাস, বুক ফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েছিল স্বজনেরা, বন্ধুরা ও প্রতিবেশীরা। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এসব ছাত্রছাত্রীর জানাজা। কেউ বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান, কেউ আবার পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল; কেউ বা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করছিল—সবই থেমে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

সোমবার দুপুরে উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত স্কুল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহত হয়েছে দেড় শতাধিক, যাদের অনেকেই এখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হাসপাতালে।

নিহতদের মরদেহ শনাক্তের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কেউ দাফনের জন্য নিয়ে যান নিজ গ্রামের বাড়িতে, কেউ আবার ঢাকাতেই স্থানীয় কবরস্থানে সন্তানের শেষ ঠিকানা গড়ে দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর, বনানী, মহাখালী, দক্ষিণখান, টঙ্গী, শ্যামপুর, জুরাইন, কামরাঙ্গীরচর, গাবতলী, এবং নারায়ণগঞ্জসহ একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দাফনের প্রক্রিয়া। প্রতিটি এলাকায় শোকাচ্ছন্ন মানুষের ঢল দেখা গেছে। এলাকার মসজিদ ও কবরস্থানে জানাজা চলাকালে কেবল কান্নার শব্দই শুনা যাচ্ছিল, কোথাও কোনো শব্দ ছিল না সান্ত্বনার।

মিরপুরের এক অভিভাবক বলছিলেন, “আমার ছেলে স্কুলে গিয়েছিল পড়তে, লাশ হয়ে ফিরবে ভাবিনি। একমাত্র সন্তান ছিল আমার, আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?”—এই প্রশ্নে যেন স্তব্ধ হয়ে পড়ে আশপাশের মানুষও।

বনানীতে দাফন হওয়া দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বড় বোন বলছিলেন, “ও সবসময় বলত আপু, আমি একদিন ডাক্তার হবো। সেই ভাইটারে আজ কবরে নামালাম। আমার ভাইয়ের স্বপ্নও মাটি হয়ে গেল।”

অনেক এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন দাফনের সময়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সহায়তার আশ্বাস দিলেও স্বজন হারানো মানুষদের চোখে ছিল শুধুই ক্ষোভ, বেদনা আর শূন্যতা।

মাইলস্টোন স্কুল প্রাঙ্গণে যখন নিহত শিক্ষার্থীদের ছবিগুলো ফুলে ফুলে ঢেকে রাখা হয়, তখন তাদের সহপাঠীরা দাঁড়িয়ে ছিল নীরব, স্থবির হয়ে। কেউ কেউ ছবি ছুঁয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেছে। শিক্ষকরা বলছিলেন, এই ক্ষতি কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
মেহরিন মিস এর দাফন সম্পুন্ন হয়েছে তাঁর স্বামীর মুখে হৃদয় বিদারক আকুতি ,তাঁদের রয়েছে দুটি সন্তান।

এই মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, আঘাত করেছে পুরো জাতিকে। একটি অসচেতনতা, অব্যবস্থাপনা এবং চরম অনিরাপত্তার করুণ পরিণতি হিসেবে এই ঘটনা যেন এক গভীর জাতীয় শোকের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি একটি করে জানাজা শেষ হয়, মানুষজন ফিরে যায়, কিন্তু রেখে যায় অসংখ্য ভাঙা স্বপ্ন, অসমাপ্ত খাতা, নিভে যাওয়া হাসিমুখ।

জাতি আজ শুধুই শোকাহত নয়—প্রশ্নবিদ্ধ, বেদনাবিধুর এবং দায়বদ্ধতার অপেক্ষায়।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত