জাপানের হোক্কাইডোতে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৭ বার
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হলেও কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমস এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের কিছু আগে হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৮৩ কিলোমিটার, যা তুলনামূলকভাবে মাঝারি গভীরতার মধ্যে পড়ে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা, যেখানে ভূকম্পনের তীব্রতা স্থানীয় ভূমিকম্প স্কেলে কিছু স্থানে উচ্চমাত্রার ছিল। বিশেষ করে উরাহোরো শহরে ভূকম্পনের মাত্রা রেকর্ড করা হয় উচ্চ ৫ এবং নিইকাপ্পু শহরে নিম্ন ৫, যা স্থানীয় জনগণের জন্য স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের সময় অনেক এলাকায় মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে অবস্থান নেন। তবে প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ বা যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বড় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

জাপান একটি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূমিকম্প বলয়ের ওপর অবস্থানের কারণে দেশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী ভবন নির্মাণ কোড এবং দ্রুত জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সাপোরো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত একটি তুলনামূলক কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। ফলে জনঘনত্ব কম হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্পের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয় না। তাই স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং উপকূলীয় এলাকায় সুনামির কোনো ঝুঁকি না থাকায় কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। ভূমিকম্পের পর কিছু আফটারশক অনুভূত হলেও সেগুলো তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ করে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে এবং কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রতিটি ভূমিকম্পকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। উন্নত ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোক্কাইডো অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটছে, যা ভূতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্ক সংকেত। তারা মনে করেন, এই অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া সক্রিয় থাকায় ভবিষ্যতেও ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থেকে যায়।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পকে মাঝারি থেকে শক্তিশালী শ্রেণির মধ্যে ধরা হয়। তবে এর গভীরতা এবং কেন্দ্রস্থলের অবস্থান অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। এই ঘটনায় গভীরতা বেশি হওয়ায় ভূ-পৃষ্ঠে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাপান সরকার দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিশ্বে একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিল্ডিং কোড এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে দেশটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অনেকটাই প্রস্তুত।

এই ভূমিকম্পের পরও স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে সতর্ক থাকার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ আফটারশক বা নতুন কোনো ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূমিকম্প বলয়ের দেশ হওয়ায় জাপানে এ ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক হলেও প্রতিবারই এটি নতুন করে সতর্কতা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে হোক্কাইডোর এই ভূমিকম্প বড় ধরনের ক্ষতি না করলেও এটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, জাপানের মতো উন্নত দেশেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময় বিদ্যমান। তবে প্রস্তুতি ও প্রযুক্তির কারণে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত