প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতের বক্স অফিসে আবারও ঝড় তুলেছে বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমারের নতুন ছবি ‘ভূত বাংলা’। মাত্র দশ দিনের মধ্যেই ছবিটি ১০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে চলচ্চিত্র মহলে। কমেডি ও হরর ঘরানার এই ব্যতিক্রমী ছবিটি দর্শকদের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি বক্স অফিসেও এনে দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ারের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি তার ২০তম সিনেমা যা শতকোটির ঘর অতিক্রম করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ‘ভূত বাংলা’ আয় করেছে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। মুক্তির পর থেকে ধারাবাহিকভাবে দর্শক টানতে সক্ষম হওয়ায় প্রথম সপ্তাহের পর দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেও ছবিটির আয় স্থিতিশীলভাবে বজায় রয়েছে। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, মৌখিক প্রশংসা এবং পারিবারিক দর্শকদের আগ্রহ ছবিটির আয়ের ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
দশ দিনের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে ছবিটির নেট কালেকশন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৩ কোটি ৪০ লাখ রুপি। অন্যদিকে গ্রস আয় হিসেবে এই সংখ্যা পৌঁছেছে ১৩৪ কোটি ৯৮ লাখ রুপিতে। সাধারণত যেসব ছবি প্রথম সপ্তাহেই শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে, তারা দ্বিতীয় সপ্তাহে গিয়ে কিছুটা ধীরগতিতে চলে যায়। কিন্তু ‘ভূত বাংলা’ সেই প্রবণতা ভেঙে স্থিতিশীল গতিতে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শুধু ভারতের বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বক্স অফিসেও ছবিটি উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, দশম দিনে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি প্রায় ৩ কোটি রুপি আয় করেছে। ফলে ছবিটির মোট বিশ্বব্যাপী গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ১৭৯ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য এবং উত্তর আমেরিকার প্রবাসী ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে ছবিটির প্রতি আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
পরিচালক প্রিয়দর্শনের পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমাটি মূলত হালকা ভয়ের আবহে হাস্যরসের মিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে। ছবিটিতে অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওয়ামিকা গাব্বি, রাজপাল যাদব, মিথিলা পালকার, পরেশ রাওয়াল, গোবর্ধন আসরানি এবং টাবু। প্রতিটি চরিত্রই গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাস্যরস ও আবেগের ভারসাম্য বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছেন সমালোচকরা।
বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কিংবদন্তি অভিনেতা গোবর্ধন আসরানির উপস্থিতি। জানা গেছে, এটি তার জীবদ্দশায় মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ চলচ্চিত্রগুলোর একটি। গত বছরের ২৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফলে ‘ভূত বাংলা’ এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক সফল সিনেমা নয়, বরং একজন অভিজ্ঞ ও প্রিয় অভিনেতার শেষ কাজ হিসেবেও আবেগঘন এক স্থান দখল করে নিয়েছে দর্শকদের হৃদয়ে।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে বলিউডে যেখানে বড় বাজেটের অনেক সিনেমা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, সেখানে ‘ভূত বাংলা’র এই সাফল্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। পারিবারিক দর্শক, কমেডি-হরর ঘরানার গল্প এবং শক্তিশালী অভিনয়—এই তিনটি বিষয় ছবিটিকে বক্স অফিসে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।
অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ারের জন্যও এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার বেশ কিছু সিনেমা প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও ‘ভূত বাংলা’ আবারও তাকে শতকোটির ক্লাবে ফিরিয়ে এনেছে। এতে করে তার ভক্তদের মধ্যেও নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই গতি অব্যাহত থাকে তবে ছবিটি সহজেই ২০০ কোটির মাইলফলকও অতিক্রম করতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করবে আগামী সপ্তাহগুলোর দর্শক প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিযোগী নতুন ছবির পারফরম্যান্সের ওপর।
সব মিলিয়ে ‘ভূত বাংলা’ বর্তমানে শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং বলিউডের সাম্প্রতিক বক্স অফিস প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিনোদন, আবেগ এবং বাণিজ্যিক সফলতার সমন্বয়ে ছবিটি ইতোমধ্যে দর্শক ও সমালোচক—উভয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।