সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন বৈধ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার এ তালিকা প্রকাশ করা হয়, যা আগামী সংসদ গঠনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের এই প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ৩৬ জন নারী প্রার্থী তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের জোটভুক্ত ১১ দলের পক্ষ থেকে মোট ১২ জন নারী প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন। এছাড়া একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও তালিকায় রয়েছেন, যিনি পৃথকভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসন সংসদীয় রাজনীতিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। তবে এই আসন বণ্টন প্রায়শই রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও জোট রাজনীতির প্রতিফলন ঘটায়। এবারের তালিকাতেও সেই রাজনৈতিক ভারসাম্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রকাশিত তালিকায় বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব নারী নেত্রী মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, নিপুন রায় চৌধুরী, নিলুফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক এবং আন্না মিনজা। দলীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার ভিত্তিতেই তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, মারদিয়া মমতাজ, তাসমিয়া প্রধান এবং মাহমুদা আলম মিতুসহ আরও কয়েকজন। তবে এ তালিকা থেকে মনিরা শারমীনের নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সুলতানা জেসমিন মনোনয়ন পেয়েছেন, যিনি রাজনৈতিক দলনির্ভরতার বাইরে থেকে সংরক্ষিত আসনে স্থান করে নিয়েছেন। তার অন্তর্ভুক্তিকে রাজনৈতিকভাবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

তবে এই তালিকা প্রকাশের মধ্যেই একটি পৃথক আইনি জটিলতা সামনে এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তার প্রার্থিতা প্রথমে রিটার্নিং অফিসার বাতিল করেন। পরবর্তীতে আপিলেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে।

তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। নুসরাত তাবাসসুম উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করলে আদালত তার রিট গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়নপত্র পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশের ফলে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। যদি এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা চ্যালেঞ্জ না আসে, তাহলে জামায়াত জোটের ১৩ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে সংবিধান ও নির্বাচন বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি প্রার্থীর যোগ্যতা, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এবং আইনি প্রক্রিয়া যাচাই করেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এই বণ্টন ভবিষ্যৎ সংসদীয় কার্যক্রমে নারীদের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নারী নেতৃত্বের অবস্থানও এই তালিকার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু দল এটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলেও, কিছু মহল মনে করছে মনোনয়ন বণ্টনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশে সংরক্ষিত নারী আসন দীর্ঘদিন ধরে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই আসন বণ্টনের প্রক্রিয়া ও দলীয় মনোনয়ন প্রায়শই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে সংসদে নারী সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আইনগত কোনো বাধা না থাকলে নির্ধারিত সময়েই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।

সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন প্রার্থীর এই তালিকা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আগামী সংসদের নারীর প্রতিনিধিত্ব কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত