প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ৩ মে আদেশ দেবেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলাগুলোর পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে সোমবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। শুনানির সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেন। এরপর আদালত মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী আদেশ ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করেন।
সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি নাম। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার আলোচনায় আসেন। তবে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরপরই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা যুক্ত হতে থাকে এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্টে দায়ের করা জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচটি মামলায় তাকে জামিন প্রদান করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। এরপর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন এবং বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।
আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের স্থগিতাদেশ সাধারণত মামলার গুরুত্ব, অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিচার প্রক্রিয়ার চলমান অবস্থার ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকে।
অন্যদিকে, মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফতুল্লা থানায় দায়ের করা কয়েকটি হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সদর মডেল থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আইনজীবী মহল মনে করছে, মামলাগুলোর প্রকৃতি ও তদন্তের অগ্রগতি এই আপিল শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপক্ষ সাধারণত জামিনের বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন করে বলে আসছে যে, তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে কিংবা সাক্ষীদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে আটক থাকা এবং মামলার বিচারিক অগ্রগতি বিবেচনায় জামিন প্রাপ্য।
গত বছরের নভেম্বর মাসেও নতুন করে আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর থেকে তার আইনগত লড়াই বিভিন্ন ধাপে এগিয়েছে। একাধিকবার হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও তা স্থগিত এবং পুনর্বিবেচনার মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগের আলোচনায় এসেছে।
এদিকে, মামলার ধারাবাহিকতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা চলছে। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে আইভীর প্রভাব থাকায় এই মামলাগুলো শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের ৩ মে’র আদেশ মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি জামিন বহাল থাকে, তবে আইভী সাময়িকভাবে মুক্তির সুযোগ পেতে পারেন। আর যদি স্থগিতাদেশ বহাল থাকে, তাহলে তাকে আরও সময় কারাগারে থাকতে হতে পারে এবং মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
আদালতের এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত সাক্ষ্য-প্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আইনি যুক্তির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়। ফলে উভয় পক্ষই এখন চূড়ান্ত আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
দেশের বিচার ব্যবস্থায় উচ্চ আদালতের এই ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি বা পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে এসব মামলার অগ্রগতি সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
৩ মে’র আদেশকে ঘিরে এখন নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে বাড়তি নজর রয়েছে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত মামলার ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণ করবে, যা পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের দিকও স্পষ্ট করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।