প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের হাইকমিশনার জলিল রহিমি জাহানাবাদি। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাওলানা মামুনুল হকের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
সাক্ষাৎটি ছিল মূলত সৌজন্যমূলক হলেও আলোচনায় উঠে আসে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্ভূত উত্তেজনা এবং এর প্রভাব নিয়ে উভয় পক্ষই মতবিনিময় করেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক ইরানের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নীতিগত চাপ ও সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে। তিনি এসব ঘটনাকে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ও তুলে ধরেন। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানি ও পরিবহন নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তার মতে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো উপকৃত হবে।
অন্যদিকে ইরানের হাইকমিশনার জলিল রহিমি জাহানাবাদি বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং এ বিষয়ে তার সরকারের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
দুই পক্ষই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তারা মনে করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করলে উভয় দেশই লাভবান হবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাক্ষাৎকালে ইরান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং অন্যান্য কূটনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বৈঠক কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এর কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের যোগাযোগ ভবিষ্যতে সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতিতে সরাসরি পরিবর্তন আসে না, বরং এটি একটি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বৈশ্বিক জ্বালানি রুট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে মামুনুল হক এবং ইরানের হাইকমিশনারের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার একটি মিশ্র প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে বিবেচিত, তবে এতে উঠে আসা বিষয়গুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।