প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে আশার বার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে যত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা আসন্ন জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে। সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত এই প্রকল্পকে নির্বিঘ্নভাবে বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটি শুধু একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের উদ্যোগ। তার ভাষায়, এটি সরকারের একটি “ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প”, যার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অর্থ সংকট হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেটে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে।”
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে একটি নির্দিষ্ট সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনা। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারগুলোকে খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিংবা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক কষ্টে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, প্রকল্পের প্রাথমিক বাস্তবায়ন পর্যায়ে কিছু ছোটখাটো ত্রুটি দেখা গিয়েছিল। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমরা সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুল আর হবে না। প্রকল্পকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বৃহৎ সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। তবে সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে পারলে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে।
এর আগে গত ১০ মার্চ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের সময় তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলোকে একটি সুসংগঠিত ডাটাবেজের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। এতে করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে এবং অনিয়ম কমবে।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি নারীদের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছালে পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাদের ভূমিকা বাড়বে।
একজন উন্নয়ন বিশ্লেষক বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটি যদি স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।”
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হতে পারেন এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে ফ্যামিলি কার্ড তাদের জন্য একটি বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।
গ্রামের এক গৃহিণী বলেন, “যদি নিয়মিতভাবে এই কার্ডের মাধ্যমে সাহায্য পাওয়া যায়, তাহলে সংসার চালাতে অনেক সুবিধা হবে।”
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, সরকার চায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। এজন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের পরিধি ও কার্যকারিতা বাড়ানো হবে।
সব মিলিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এখন সরকারের একটি বড় সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের আশ্বাসের ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য কত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি হবে না—এমন আশ্বাসই আপাতত স্বস্তি দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে।