চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডের, লড়াইয়ে বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডের, লড়াইয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ক্রিকেটের মঞ্চে কখনো এক ঝলকেই বদলে যায় ম্যাচের গতি, আবার কখনো দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণ শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হয়ে যায়। ঠিক এমনই এক নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে Bangladesh national cricket team-এর সামনে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে New Zealand national cricket team। শুরুতে দারুণ নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি, ফলে ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করার কঠিন সমীকরণ দাঁড়িয়েছে লিটন দাসের দলের সামনে।

তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রানআউট হয়ে ফেরেন টিম রবিনসন। এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল Towhid Hridoy-এর নিখুঁত থ্রো, যা ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মাত্র ১১ রানেই প্রথম উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড তখন কিছুটা বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল।

তবে ক্রিকেট এমনই একটি খেলা, যেখানে একটি জুটি পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। দ্বিতীয় উইকেটে কেটেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার সেই কাজটাই করেন। দুজনের ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে কিউইরা। শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করলেও পরে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে তারা গড়ে তোলেন ৮৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

কেটেন ক্লার্ক তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচেই তুলে নেন অভিষেক ফিফটি। তার ব্যাট থেকে আসে ৫১ রানের ঝকঝকে ইনিংস, যা নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। অন্যদিকে ড্যান ক্লেভারও সমানতালে খেলতে থাকেন এবং তিনিও ৫১ রান করে দলের সংগ্রহকে শক্তিশালী করেন। এই সময় মনে হচ্ছিল, নিউজিল্যান্ড সহজেই ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

কিন্তু এখানেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। লেগ স্পিনার Rishad Hossain হঠাৎ করেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি প্রথমে ক্লেভারকে আউট করে জুটিটি ভাঙেন, এরপর পরের ওভারেই ফেরান ক্লার্ককে। তার এই ডাবল স্ট্রাইক বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। সেই সঙ্গে তানজিম হাসান সাকিবও যোগ দেন উইকেট শিকারের মিছিলে।

এক পর্যায়ে মাত্র ১৮ রানের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড হারিয়ে ফেলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তখন মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ সহজেই প্রতিপক্ষকে ১৬০ রানের নিচে আটকে ফেলবে। মাঠে তখন পুরোপুরি আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের বোলারদের।

তবে শেষের গল্পটা অন্যরকম। অভিজ্ঞতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ইনিংসের হাল ধরেন নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন। চোটের কারণে টম ল্যাথাম ছিটকে যাওয়ার পর অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া নিক কেলি দারুণভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যা দলের সংগ্রহকে এগিয়ে নেয়।

অন্যদিকে জশ ক্লার্কসন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২৭ রান করেন। তার এই ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে একটি সম্মানজনক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ এনে দেয়। শেষদিকে তাদের ব্যাটিং দৃঢ়তা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে কিছুটা নিষ্প্রভ করে দেয়।

নির্ধারিত ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮২ রান। এই স্কোর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ দলটি শুরুতে ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েও শেষ দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ হোসেন ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচে দলের প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করেন। তবে অন্য বোলাররা শেষের দিকে চাপ ধরে রাখতে না পারায় স্কোরটা বড় হয়ে যায়।

এখন সব নজর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনের দিকে। এই লক্ষ্য তাড়া করতে হলে শুরুটা ভালো হওয়া জরুরি। ওপেনারদের দায়িত্ব নিতে হবে, আর মিডল অর্ডারকে দেখাতে হবে পরিপক্বতা। লিটন দাসের নেতৃত্বে দলটি কতটা চাপ সামলে খেলতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক রোমাঞ্চকর লড়াই। শুরুতে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হাতছাড়া করার আক্ষেপ যেমন আছে, তেমনি সামনে রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, এই চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য পেরিয়ে বাংলাদেশ জয় ছিনিয়ে নিতে পারে কিনা।

এই ম্যাচ শুধু একটি স্কোরবোর্ডের লড়াই নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তা, কৌশল এবং শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার গল্প। যেখানে প্রতিটি রান, প্রতিটি বল এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর কারণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত