ইরান বন্দর অবরোধে তেলর দামে উত্থান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৬ বার
তেলের দামে টানা ঊর্ধ্বগতি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে অবরোধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম টানা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের দামে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নীতিনির্ধারক মহলে ইরানের তেল রপ্তানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্য সীমিত করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানের বিভিন্ন বন্দর এলাকায় জাহাজ চলাচল আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইরানের প্রভাব কমানোকে উল্লেখ করা হচ্ছে।

এই খবর প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের জুন সরবরাহ চুক্তির দাম ৫২ সেন্ট বা প্রায় ০.৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছায়। টানা অষ্টম দিনের মতো মূল্যবৃদ্ধির এই ধারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সময়ে জুলাই চুক্তির দাম দাঁড়িয়েছে ১০৪ দশমিক ৮৪ ডলারে, যা প্রায় ০.৪ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুন চুক্তিতে এই তেলের দাম ৫৭ সেন্ট বা প্রায় ০.৫৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। আগের সেশনে এই বাজারে আরও বড় ধরনের উত্থান দেখা গিয়েছিল, যেখানে দাম প্রায় ৩.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি মূলত সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান অঞ্চল হওয়ায় এখানে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ইরানের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধের খবর বাজারকে দ্রুত অস্থির করে তোলে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বন্দর কার্যক্রম সীমিত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন নীতি এবং বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে। তার ওপর নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা যুক্ত হওয়ায় তেলের বাজার আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও শিল্প খাতের ব্যয় বেড়ে যায়, যার ফলে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে, কারণ তাদের আমদানি নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্যও আন্তর্জাতিক তেলের দামের এই উত্থান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার কৌশলগত পদক্ষেপ আগামী দিনগুলোতে আরও পরিবর্তিত হতে পারে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয়ে ওঠে, তাহলে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে কিছু বিশ্লেষক আশাবাদী যে বড় শক্তিগুলোর কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে। কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য তেলের দামের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা মূল্যবৃদ্ধির এই ধারা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে নিয়ে গেছে। অনেক ট্রেডার ভবিষ্যৎ চুক্তিতে ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। ফলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ইরানের বন্দর পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবরোধ পরিকল্পনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের বাজার আরও ওঠানামার মধ্যে থাকতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত