গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়াজ আহমদের নতুন দায়িত্ব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ বার
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন দায়িত্বে সাবেক ঢাবি ভিসি নিয়াজ আহমদ খান

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এবার যোগ দিয়েছেন গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে জ্যেষ্ঠ কৌশলগত পরামর্শক (সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার) হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শিক্ষা ও গবেষণা অঙ্গনে অভিজ্ঞ এই শিক্ষাবিদকে যুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির কৌশলগত উন্নয়ন ও একাডেমিক পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পরই অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান নতুন এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দীর্ঘ প্রশাসনিক ও একাডেমিক অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত হয়। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় তাকে।

প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছায় উপাচার্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার মেয়াদকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং বিভিন্ন সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার ভূমিকা নিয়ে একাডেমিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ বা তিন শূন্য ধারণার ভিত্তিতে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই ধারণার মূল লক্ষ্য হলো শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করা। এই দর্শনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আধুনিক, উদ্ভাবনী ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কাঠামোতে পাঁচটি পৃথক স্কুলের অধীনে মোট ১৪টি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রোগ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রাম মূলত প্রযুক্তি, সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের মাধ্যমে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় তার একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পায়। ফলে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর প্রতিষ্ঠানটি এখন পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যারা প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক নীতি নির্ধারণ ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা কোনো ধরনের বেতন, ভাতা বা সভায় অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলেও জানানো হয়েছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি নতুন প্রজন্মের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কারণে এটি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের মতো একজন অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদকে কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও শিক্ষাক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা মহলের মতে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে উদ্ভাবন ও বাস্তবমুখী শিক্ষার চাহিদা বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের থ্রি জিরো ধারণা ভিত্তিক শিক্ষা মডেল নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়ন, গবেষণা সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ওপর।

সব মিলিয়ে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণ শুধু একটি ব্যক্তিগত পেশাগত অগ্রগতি নয়, বরং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত