জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা পাবে বিনামূল্যের উপকরণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী জুলাই মাস থেকে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রতি উপজেলায় দুটি বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও সহজ ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় এক লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য এই উপকরণ সরবরাহ করা হবে। বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে, যা একটি রাষ্ট্র-ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের নতুন দৃষ্টান্ত।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, বস্ত্র ও পাট, সংস্কৃতি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারাও অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিশুদের জন্য যে ড্রেস, ব্যাগ ও জুতার ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে একটি নির্দিষ্ট মান ও নকশা অনুসরণ করা হবে, যাতে সারা দেশে একরূপতা বজায় থাকে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শুধু পোশাক বা উপকরণ সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি সমতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। কোনো শিক্ষার্থী যেন আর্থিক কারণে পিছিয়ে না পড়ে, সেটিই মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, আগামী অর্থবছরে এটি আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কিন্তু একই মানের পোশাক, ব্যাগ ও জুতা নির্ধারণ করা হবে। এতে শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরি হবে না।

নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়বে এবং ঝরে পড়ার হার কমে আসবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য এটি একটি বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রাথমিক শিক্ষায় উপকরণ সংক্রান্ত ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে। বই বিনামূল্যে দেওয়া হলেও ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা কিনতে অনেক পরিবারকে কষ্ট করতে হয়। এই উদ্যোগ সেই চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি কার্যকরভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এটি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি এটি শিক্ষায় সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পে ধাপে ধাপে বাজেট বৃদ্ধি করা হবে এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে। ভবিষ্যতে এটি দেশের সব উপজেলায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই নতুন উদ্যোগকে একটি বড় সামাজিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা, সমতা ও সামাজিক সুরক্ষার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত