সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের আট মনোনীত এমপি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৯ বার
আট এমপির ছয়জনই ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেত্রী

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত আট নারী নেত্রীর নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই নেতৃত্বকে ঘিরে দলের ভেতরে ও বাইরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মহিলা বিভাগের প্রস্তাবনা এবং জোটগত রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে এই আটজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের রয়েছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা। তারা পরবর্তীতে জামায়াতের মহিলা বিভাগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন।

সূত্র আরও জানায়, ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনে মোট ১৩টি আসন বরাদ্দ থাকলেও রাজনৈতিক সমঝোতা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে জামায়াত আটজনকে মনোনয়ন দেয়। জোটের অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যেও বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে মনোনীত প্রার্থীদের বৈধতা ঘোষণা করা হয়েছে এবং গেজেট প্রকাশের পর তারা শপথ গ্রহণ করবেন।

মনোনীতদের মধ্যে অন্যতম নূরুন্নিসা সিদ্দীকা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সাংগঠনিক অঙ্গনে সক্রিয়। শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি তিনি জামায়াতের মহিলা বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন। ছাত্রীসংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃত্বে তার ভূমিকা সংগঠনটির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংসদে গিয়ে নারী ও শিশুর অধিকার, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

অন্যদিকে মারজিয়া বেগম ছাত্রীসংস্থার সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে দীর্ঘ সময় সংগঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সংসদে আইন প্রণয়ন এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা তার।

অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী পেশাগত জীবনে একজন সুপ্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি আইন, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে কাজ করছেন। লেখক ও গবেষক হিসেবেও তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিচিতি। সংসদে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় দক্ষ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা তার ঘনিষ্ঠ মহলের।

নাজমুন্নাহার নীলু শিক্ষা ও সাংগঠনিক দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয়। ছাত্রীসংস্থার নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি শিক্ষা ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সংসদে নারী উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সিলেট মহানগরীর সাবেক রাজনৈতিক দায়িত্বশীল অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান দীর্ঘদিন শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। সিলেটের অবকাঠামো, পানি সমস্যা এবং শিক্ষা উন্নয়নকে তিনি সংসদে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন।

বগুড়ার সাজেদা সামাদ স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সংসদে আসছেন। গৃহিণী পরিচয়ের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে। তিনি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীদের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

চট্টগ্রামের শামছুন্নাহার বেগম শিক্ষাক্ষেত্র ও সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি তিনি দলীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। নারী অধিকার ও সামাজিক উন্নয়নকে সংসদীয় কাজের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বুয়েট থেকে শিক্ষা শেষ করে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। সংসদে প্রযুক্তি খাত এবং নারীদের পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা তার।

জোটের অন্যান্য মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পরিবারের প্রতিনিধিরা, যারা জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। তাদের উপস্থিতি সংসদে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে এই মনোনয়ন শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বই নয়, বরং নারী নেতৃত্বের ধারাবাহিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা জীবনের সমন্বয়ে গঠিত এই নেতৃত্ব সংসদে নীতি নির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, জোট রাজনীতির সমীকরণে এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া যেমন ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা, তেমনি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নতুন এই নেতৃত্ব বাংলাদেশের নারী রাজনৈতিক অংশগ্রহণে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংসদে তাদের ভূমিকা কেমন হয়, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত