এপ্রিলে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় উত্থান, ২৯১ কোটি ডলার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ বার
রেমিট্যান্সে এলো ২৯১ কোটি ডলার

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাসের প্রথম ২৮ দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ২৯১ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৯০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। প্রতিদিন গড়ে এই প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৩৯ লাখ ডলারে। তিনি আরও জানান, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৫০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে বছর ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে একটি ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতার কারণে এই প্রবাহ বাড়ছে। একই সঙ্গে হুন্ডি নির্ভরতা কিছুটা কমে আসায় আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানো আরও সহজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে মার্চ মাসে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা ছিল দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাহ। ওই মাসে প্রবাসী আয়ের রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ায় অর্থনীতিবিদরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করেন।

তার আগের মাসগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার এবং জানুয়ারিতে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার। এই ধারাবাহিক প্রবাহকে অর্থনীতির জন্য একটি স্থিতিশীল ভিত্তি হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ কমাতে সহায়তা করছে। আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধিতেও এই অর্থ বড় ভূমিকা রাখে।

তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর জন্য প্রণোদনা অব্যাহত রাখা জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহকে আরও গতিশীল করতে তারা বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজ করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com