প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফুটবল প্রশাসনের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা। ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে ভ্যাঙ্কুবারে যাওয়ার পথে তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার, যখন তিনি কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ফুটবলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভা ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে রওনা দেন। তবে কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি এবং পরে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।
ইরানিয়ান সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথিত অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগও এই সিদ্ধান্তের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে ছিলেন ফেডারেশনের মহাসচিব হেদায়াত মমবেইনি এবং ডেপুটি হামিদ মোমেনি।
তথ্য অনুযায়ী, মেহেদি তাজকে কানাডায় প্রবেশের জন্য অস্থায়ী রেসিডেন্ট পারমিট দেওয়া হয়েছিল। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত তার প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয় এবং তাকে ফেরত পাঠানো হয়।
এই ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তার অতীত সামরিক সংশ্লিষ্টতা। জানা গেছে, মেহেদি তাজ একসময় ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কানাডা এই সংস্থাটিকে একটি নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
কানাডার অভিবাসন নীতিমালা অনুযায়ী, এমন কোনো সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। সেই নীতির আওতায়ই তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর কানাডার অভিবাসন মন্ত্রণালয় সরাসরি এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য না করলেও একটি সাধারণ বিবৃতিতে জানায়, দেশের নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তারা আরও জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংক্রান্ত এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একটি দেশের ফুটবল প্রধানের প্রবেশে বাধা দেওয়া সাধারণত বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।
ফিফা কংগ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সভায় বিশ্ব ফুটবলের নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। এমন একটি সভায় একজন সদস্য দেশের প্রতিনিধির অনুপস্থিতি বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল ক্রীড়া প্রশাসনের বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা নীতির প্রভাবও এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের অভিবাসন নীতি এবং রাজনৈতিক অবস্থান এখন ক্রীড়া প্রশাসনেও প্রভাব ফেলছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দেশটির ফুটবল প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে যে, ভবিষ্যতে এমন কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা ক্রীড়া কার্যক্রমকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে।
মেহেদি তাজের সফর বাতিল হওয়ায় ফিফা কংগ্রেসে ইরানের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত এই ধরনের সভায় সব সদস্য দেশের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ফুটবল ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সম্পর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ক্রীড়া এখন আর শুধুমাত্র মাঠের খেলা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক নীতি, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
সব মিলিয়ে মেহেদি তাজকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এটি শুধু একটি সফর বাতিলের ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক ক্রীড়া রাজনীতির জটিল বাস্তবতার একটি প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।