বিচারপতি খায়রুল রাষ্ট্রবিরোধী রায় দিয়েছেন: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি মির্জা ফখরুলের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৬ বার
পি আর না গণভোটের নির্বাচন জনগণ কোনটা চায়

প্রকাশ: ২৪ শে জুন, ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী রায়কে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, “আজ দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু যদি কেউ হয়ে থাকে, তা হল সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। তার যে রায়টি ছিল, সেটি দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার একটি ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ ছিল। দেরিতে হলেও সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে, এ জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। তবে এত দেরিতে হলেও এটিকে যথাযথভাবে বিচার করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। আইনের মাধ্যমেই তার বিচার হোক, এবং যেন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়, যে বিচারপতিরা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার হবেন, তারা ছাড় পাবেন না।”

সাবেক এই প্রধান বিচারপতির দেওয়া রায়ের কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং গণতন্ত্রের যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে, সে বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করে একটি পক্ষকে ক্ষমতায় থাকার রাস্তা করে দিয়েছিলেন খায়রুল হক। আজ দেশে যে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের অভাব — তার মূল উৎস সেই রায়।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও একটি প্রসঙ্গে সরব হন বিএনপি মহাসচিব। তিনি অভিযোগ করেন, “শিশু একাডেমির ভবন ভাঙার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অমানবিক। একটি জাতির ভবিষ্যতকে গড়ে তোলার যেসব প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার, তার অন্যতম হলো শিশু একাডেমি। তার ভবন ভেঙে দেওয়া হলে শিশুরা মানসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলনের আগে তিনি উত্তরা পূর্বাচলের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত তিন শিশুর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান তিনি এবং এই দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানান।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, দেশের বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য জবাবদিহিতা ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তবে এই বক্তব্য কতটুকু রাজনৈতিক, আর কতটুকু বাস্তবধর্মী তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।

বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সরকারী পদক্ষেপ যে একটি আলোচিত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কতটা কার্যকর এবং স্বচ্ছ হয় — তা দেশের জনগণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত