প্রকাশ: ২৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত দলকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে, তেমনি ভবিষ্যতে দেশকেও সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দলটির রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে তিনি বলেন, “গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের প্রতিও জামায়াত কোনো অবিচার করেনি। আমাদের কোনো নেতার নামে বেগমপাড়া বা পিসিপাড়ার খবর নেই। আমরা ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি করি। দলকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি, দেশকেও তেমনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।”
সম্মেলনের শুরুতেই তিনি দাবি করেন, ইসলামই পৃথিবীর একমাত্র অসাম্প্রদায়িক ধর্ম এবং ইনসাফের ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে সকলের সহযোগিতা চান।
“আমরা ইনসাফ চায়, সুবিচার চায়। কারো ওপর অন্যায় নয়, ধর্ম বা রাজনৈতিক মতভেদের কারণে নয়—আমরা চাই প্রতিটি মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। ইসলাম এই নীতিই শিক্ষা দেয়,”—বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক বিচার ব্যবস্থা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গত সাড়ে ১৫ বছরে এই দেশ বিচার ব্যবস্থার নামে শুধু প্রহসন দেখেছে। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা কার্যত মুছে গেছে। রাজনীতি হয়ে গেছে দমন-পীড়নের হাতিয়ার।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতের রাজনীতি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, এটি একটি আদর্শিক লড়াই। মানুষ ও মানবতার কল্যাণই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তাই আমরা ইসলাম ও দেশপ্রেমিক সব শক্তিকে নিয়ে পথ চলতে চাই।”
এদিন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে দেশজুড়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা সভায় অংশ নিয়ে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের দমন করে রাখা যাবে না। আমরা জনগণের দল। জনগণের সঙ্গে থাকলে কোনো দমন-পীড়ন আমাদের পথ রুদ্ধ করতে পারবে না। আমরা বিশ্বাস করি—বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবেই, ইনশাআল্লাহ।”
রাজনীতিতে জামায়াতের পুনঃউত্থান এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদী হয়ে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের ভুলত্রুটি থেকে শিখছি। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। জনগণের আস্থা ফিরে পেতে আমরা আমাদের পথ পরিস্কার রাখতে চাই।”
রুকন সম্মেলনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক গতিপথ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামী দিনগুলোতে তাদের অবস্থান কীভাবে দেশীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে আমিরের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—তারা আর পেছনে ফিরে তাকাতে চান না, বরং নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতিতেই এখন তাদের সমস্ত মনোযোগ।