আইসিসির মাসসেরা দৌড়ে বাংলাদেশের নাহিদ রানা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের দৌড়ে নাহিদ রানা

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে পেস বোলিং বিভাগে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তার অন্যতম উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছেন তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানা। গতি, আগ্রাসন এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে খুব অল্প সময়েই তিনি নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। এবার সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এপ্রিল মাসের সেরা ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ পেসার।

আইসিসি প্রকাশিত মনোনয়ন তালিকায় পুরুষ বিভাগে নাহিদ রানার সঙ্গে রয়েছেন ওমানের অধিনায়ক জতীন্দর সিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাঁহাতি পেসার অজয় কুমার। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন মূলত নাহিদের দিকেই। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে তার দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স দেশের ক্রিকেটে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে অসাধারণ বোলিং করেন নাহিদ রানা। তিন ম্যাচের সিরিজে মোট ৮ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের প্রধান ভরসা। শুধু উইকেট নেওয়াই নয়, পুরো সিরিজজুড়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে রাখার দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদ ছিলেন একেবারে অপ্রতিরোধ্য। সেই ম্যাচে মাত্র ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং উপহার দেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ভেঙে দেন এই তরুণ পেসার। তার আগুনঝরা বোলিংয়ে বাংলাদেশ ম্যাচটি ৫৫ রানের বড় ব্যবধানে জিতে নেয়। ম্যাচ শেষে তাকে নির্বাচিত করা হয় ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হিসেবে।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচেও নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন নাহিদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন তিনি। পুরো সিরিজে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য সিরিজসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন নাহিদ।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই একজন প্রকৃত গতিময় পেসারের অভাব অনুভূত হচ্ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম কিংবা হাসান মাহমুদের মতো বোলাররা ভালো করেছেন, তবে নাহিদের গতি এবং আগ্রাসন আলাদা করে নজর কাড়ছে। নিয়মিত ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করার সক্ষমতা তাকে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য ভয়ংকর করে তুলেছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার আত্মবিশ্বাস এবং উইকেট নেওয়ার মানসিকতা। অনেক তরুণ পেসার শুরুতে গতি ধরে রাখতে পারলেও ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেন না। কিন্তু নাহিদ খুব দ্রুতই বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি কেবল গতির ওপর নির্ভরশীল নন; লাইন-লেন্থ এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝেও বোলিং করতে পারেন।

আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাওয়া বাংলাদেশের জন্যও ইতিবাচক খবর। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন বাংলাদেশি পেসারের এমন স্বীকৃতি খুব বেশি দেখা যায় না। ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকেই মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথে নাহিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে।

অন্যদিকে মনোনীত বাকি দুই ক্রিকেটারও এপ্রিল মাসে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ওমানের অধিনায়ক জতীন্দর সিং মাসজুড়ে ওয়ানডেতে ২৬৬ রান করেছেন। নেপালের বিপক্ষে তার ১৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে তিনি দলকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জয় এনে দেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাঁহাতি পেসার অজয় কুমারও ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। পুরো মাসে তিনি ৯ উইকেট শিকার করেন। বিশেষ করে ওমানের বিপক্ষে ৬ উইকেট নেওয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং সুইং দক্ষতা প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রিকেট মহলে।

তবে বাংলাদেশি সমর্থকদের আশা, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবেন নাহিদ রানা। কারণ শুধু পরিসংখ্যান নয়, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় বার্তা দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নাহিদকে নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনেকেই তাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পেস আক্রমণের নেতা হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ বলছেন, সঠিক পরিচর্যা এবং পরিকল্পনার মধ্যে থাকলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের সেরা পেসারদের একজন হয়ে উঠতে পারেন তিনি।

বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমেও এখন নাহিদকে ঘিরে বাড়ছে আস্থা। কোচিং স্টাফ এবং সিনিয়র ক্রিকেটাররা তার পরিশ্রম ও উন্নতির মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। জানা গেছে, নিজের ফিটনেস এবং বোলিং দক্ষতা উন্নত করতে নিয়মিত অতিরিক্ত অনুশীলন করছেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তরুণ এই পেসারকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে শক্তিশালী পেস আক্রমণ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সেই জায়গায় নাহিদের উত্থান বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর।

এখন অপেক্ষা শুধু আইসিসির চূড়ান্ত ঘোষণার। মাসসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিততে পারলে তা হবে নাহিদ রানার ক্যারিয়ারের বড় এক অর্জন এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও গর্বের মুহূর্ত। তবে পুরস্কার জিতুন বা না জিতুন, এপ্রিল মাসের পারফরম্যান্সে তিনি ইতোমধ্যেই কোটি ক্রিকেটভক্তের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত