ডিসেম্বরে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের জোর প্রস্তুতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-নির্বাচন কৌশল নির্ধারণকে সামনে রেখে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবার কাউন্সিলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে, বিশেষ করে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে সামনে রেখে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে দলের ভেতরে-বাইরে কাউন্সিল ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, সাংগঠনিক স্থবিরতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলোতেও সাম্প্রতিক সময়ে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলের দিনক্ষণ নির্ধারণের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তারেক রহমানকে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও গত এক দশকে দলটির পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল হয়নি। এ সময়ে নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হলেও পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন বা সাংগঠনিক রূপরেখা নির্ধারণ হয়নি। ফলে তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেই নতুন কাউন্সিল নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের কাউন্সিল বিএনপির জন্য শুধু সাংগঠনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দলটি বর্তমানে সরকারে থাকলেও বিরোধী রাজনীতির চাপ, সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি—সবকিছু মিলিয়ে নতুন কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। সেই জায়গা থেকেই কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় বিএনপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নেবেন। এই সভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন।

দলীয় নেতাদের মতে, এই মতবিনিময় সভা মূলত জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা, বিরোধী দলের কর্মকৌশল এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, এটি সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা। সেখানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থেকে নেতাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সভা থেকেই জাতীয় কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময়সূচি কিংবা প্রস্তুতির বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা আসতে পারে।

দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনও কাউন্সিল প্রস্তুতির একটি বড় অংশ। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিগুলোর মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে নতুন নেতৃত্ব আনার মাধ্যমে সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের কথা ভাবছে দলীয় হাইকমান্ড।

এদিকে দলীয় নেতাদের অনেকেই মনে করছেন, এবারের কাউন্সিলে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত আসতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ জনগণের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা হতে পারে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারের জন্যও নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন বিএনপির জন্য সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনেরও একটি বড় সুযোগ। কারণ দীর্ঘ সময় কাউন্সিল না হওয়ায় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটি সেই প্রশ্নের জবাব দিতে চায়। একই সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করাও দলটির অন্যতম লক্ষ্য।

তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তারা মনে করছেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক জটিলতা দূর হবে এবং যোগ্য ও ত্যাগী নেতারা নেতৃত্বে আসার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে তরুণ নেতাদের মধ্যে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—কবে ঘোষণা হবে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক তারিখ। যদিও দলীয় নেতারা ডিসেম্বরের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল এখন শুধু দলীয় আয়োজন নয়, বরং দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত