৩ হাজার ৪৮২ বেয়ারব্রিক সংগ্রহে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ড্যানিয়েল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৮ বার
বেয়ারব্রিক ব্র্যান্ডের মোট ৩,৪৮২টি সংগ্রহযোগ্য ফিগার

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শখ মানুষের জীবনে আনন্দ এনে দেয়—এ কথা নতুন নয়। তবে কখনও কখনও সেই শখই হয়ে ওঠে পরিচয়ের বড় মাধ্যম, এনে দেয় বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ড্যানিয়েল পার্কের গল্পটিও তেমনই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। ছোট্ট একটি সংগ্রহ থেকে শুরু করে তিনি গড়ে তুলেছেন এমন এক ব্যক্তিগত ভাণ্ডার, যা এখন জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। জনপ্রিয় সংগ্রহযোগ্য ফিগার ‘বেয়ারব্রিক’-এর ৩ হাজার ৪৮২টি সংস্করণ সংগ্রহ করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেয়ারব্রিক সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

চলতি বছরের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ড্যানিয়েলের নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হয়। তার বাড়ির অফিসকক্ষ এখন যেন এক রঙিন শিল্পভুবন। দেয়ালজুড়ে সাজানো হাজার হাজার বেয়ারব্রিক ফিগার, যেগুলোর প্রতিটির রয়েছে আলাদা নকশা, আলাদা ইতিহাস এবং সংগ্রাহকদের কাছে আলাদা মূল্য।

ড্যানিয়েল পার্ক জানিয়েছেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার এই যাত্রার শুরু। একদিন কৌতূহলবশত একটি ‘ব্লাইন্ড বক্স’ কিনেছিলেন তিনি। ভেতরে কী আছে, তা আগে থেকে জানা যায় না—এমন রহস্যময় প্যাকেট খুলেই প্রথমবারের মতো হাতে আসে একটি বেয়ারব্রিক ফিগার। সেই মুহূর্তেই যেন শুরু হয় এক নতুন নেশা। এরপর ধীরে ধীরে তিনি সংগ্রহ বাড়াতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বাসার একটি কক্ষ পরিণত হয় ছোট্ট একটি ব্যক্তিগত জাদুঘরে।

বেয়ারব্রিক মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠান মেডিকম টয়ের তৈরি একটি সংগ্রহযোগ্য ফিগার। ২০০১ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ক্যারেক্টার কনভেনশনের অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে প্রথম এটি তৈরি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা তাতসুহিকো আকাশির পরিকল্পনায় তৈরি হওয়া এই ফিগার দ্রুতই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বেয়ারব্রিকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর মাথার অংশে থাকা ভালুক আকৃতির ডিজাইন। টেডি বেয়ারের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ধারণা ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সেটিই হয়ে ওঠে বেয়ারব্রিকের স্বতন্ত্র পরিচয়। একই আকারের ফিগারে অসংখ্য রঙ, নকশা ও শিল্পভাবনার সমন্বয় বেয়ারব্রিককে শুধু খেলনা নয়, বরং শিল্পকর্ম হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বেয়ারব্রিক সংগ্রাহকদের বড় একটি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর নতুন সিরিজ বাজারে আসে। এসব সিরিজে বিভিন্ন সেলিব্রিটি, শিল্পী, ফ্যাশন ডিজাইনার, সংগীতশিল্পী ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয় বিশেষ সংস্করণ। ফলে কিছু কিছু বেয়ারব্রিক বাজারে অত্যন্ত দুর্লভ এবং ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

সংগ্রাহকদের কাছে বেয়ারব্রিকের আকর্ষণ শুধু এর বাহ্যিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রতিটি সংস্করণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সংস্কৃতি, শিল্প এবং জনপ্রিয় বিনোদন জগতের নানা গল্প। অনেকেই এগুলোকে আধুনিক পপ-আর্টের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করেন।

ড্যানিয়েল পার্ক বলেন, একই আকৃতির মধ্যে থেকেও বেয়ারব্রিক যে অসীম সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাতে পারে, সেটিই তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। তার মতে, প্রতিটি ফিগার যেন একেকটি আলাদা শিল্পকর্ম। কোনোটি সংগীতশিল্পীর অনুপ্রেরণায় তৈরি, কোনোটি চলচ্চিত্রভিত্তিক, আবার কোনোটি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের বিশেষ সংস্করণ।

তার সংগ্রহে রয়েছে বিভিন্ন আকার ও সীমিত সংস্করণের বহু বিরল বেয়ারব্রিক। কিছু সংস্করণ এতটাই দুর্লভ যে বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকজন সংগ্রাহকের কাছেই সেগুলো রয়েছে। এসব সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনলাইন নিলাম, সংগ্রাহক বাজার এবং বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক দশকে সংগ্রহযোগ্য খেলনা ও ডিজাইনার টয়ের বাজার বিশ্বব্যাপী দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এসব সংগ্রহের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সীমিত সংস্করণের একটি ছোট্ট ফিগারের দাম লাখ লাখ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে ২০২০ সালে চীনের সংগ্রাহক গাও কে ১ হাজার ৮টি বেয়ারব্রিক সংগ্রহ করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। তবে ড্যানিয়েল পার্কের সংগ্রহ সেই রেকর্ডকে বিশাল ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে তিনি প্রায় সাড়ে তিন হাজার বেয়ারব্রিক সংগ্রহ করে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছেন।

ড্যানিয়েলের এই অর্জন শুধু সংগ্রাহকদের নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তার সংগ্রহের ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই এটিকে আধুনিক সংগ্রহশিল্পের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে সংগ্রহের বিষয়টি শুধু শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি এখন অনেকের কাছে ব্যক্তিগত পরিচয়, শিল্পচর্চা এবং বিনিয়োগের মাধ্যমেও পরিণত হয়েছে। ড্যানিয়েল পার্কের বিশ্বরেকর্ড সেই প্রবণতাকেই আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত