প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালনের প্রস্তুতি শুরু করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। এ উপলক্ষে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটি জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি স্মরণীয়ভাবে পালন করতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
গঠিত কমিটিতে অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানকে আহ্বায়ক এবং কৃষিবিদ বয়জার রহমানকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকা এই দুইজন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, শিক্ষামূলক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাদের ওপর পুরো আয়োজনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতা ও সমন্বিত উদ্যোগে এবারের আয়োজন আরও সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী হবে।
যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিন জুয়েল, প্রকৌশলী উমাশা উমায়ন মনি চৌধুরী, রেজাউর রহমান চৌধুরী সুমন এবং ডা. পারভেজ রেজা কাঁকন। এই নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্র থেকে আসায় আয়োজনের প্রতিটি ধাপে বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, কৃষিবিদ আনোয়ারুল কবীর মজুমদার বাবলা, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডা. মো. এরফানুল হক সিদ্দিকী, ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন (সাজিদ), অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা, অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. শামীম আহমেদ, অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিম, প্রকৌশলী মো. শাহীন হাওলাদার, প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সোহেল, প্রকৌশলী আসিফ হোসেন রনি, প্রকৌশলী এলামুল হক, প্রকৌশলী ফজলে মাহবুদ অতি, অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন, ব্যবসায়ী সৈয়দ এজাজ কবির, ব্যবসায়ী তানিম খান, ব্যবসায়ী মহলীন চৌধুরী, ব্যবসায়ী সাকিবুজ্জামান, মিসেস শামীমা রহিমা, ডা. জাহানারা লাইজু, ডা. এস এম রাকিবুল ইসলাম আকাশ, ডা. গালিব হাসান, ডা. এম আর হাসান, ডা. আমিরুল ইসলাম পাটওয়ারী, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, ডা. তানজীম কুবায়েশ অফিফ, ডা. কাইয়ুম হোসেন লিফাত, ডা. মেহেদী হাসান তুষার এবং ডা. রাসেল হোসেন। বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের অংশগ্রহণকে সংগঠনটি একটি বড় শক্তি হিসেবে দেখছে, যা আয়োজনকে আরও বিস্তৃত ও জনসম্পৃক্ত করতে সহায়তা করবে।
কমিটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম। তার তত্ত্বাবধানে পুরো কর্মসূচির প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দিকগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
এবারের শাহাদাত বার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে তিনটি পৃথক উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। এই উপকমিটি জাতীয় ও সাংগঠনিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন পরিচালনা করবে।
অন্যদিকে বৃক্ষরোপণ উপকমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. আব্দুল করিমকে। পরিবেশ সচেতনতা ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানা আপ্যায়ন উপকমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী শাহীন হাওলাদার। এই উপকমিটির মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতির জীবন ও আদর্শকে স্মরণ করে এবারের আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটাবে। সংগঠনের নেতারা মনে করেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, দেশপ্রেম এবং উন্নয়নমূলক চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
দিবসটি ঘিরে সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা এবং সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়েও স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফাউন্ডেশনের নেতারা সবাইকে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই দিবস শুধু একটি স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি দেশের ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
সব মিলিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে এবারের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।