‘ক্যাটফাইট নয়, আমরা ছিলাম এক পরিবারের মতো’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান ও রাকুল প্রীত সিং

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডে দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে একসঙ্গে কোনো সিনেমায় দেখা গেলেই শুরু হয় তুলনা, প্রতিযোগিতা কিংবা গুঞ্জনের নতুন অধ্যায়। কে বেশি গুরুত্ব পেলেন, কার দৃশ্য বেশি, কার জনপ্রিয়তা বেশি—এসব নিয়েই তৈরি হয় নানা আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে সেই আলোচনাগুলো আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান ও রাকুল প্রীত সিং এমনই একটি বহুল আলোচিত গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাস্তবে তাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব বা ‘ক্যাটফাইট’ নেই। বরং ‘পতি পত্নী অর ওহ ২’ সিনেমার শুটিং সেটে তারা ছিলেন অনেকটা পরিবারের সদস্যদের মতো।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দুই অভিনেত্রী তাদের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল, নতুন এই সিনেমার শুটিং চলাকালে সারা আলি খান ও রাকুল প্রীত সিংয়ের মধ্যে নাকি অস্বস্তিকর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এমনকি কয়েকটি বিনোদনভিত্তিক পোর্টাল দাবি করেছিল, সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ও স্ক্রিন টাইম নিয়ে দুজনের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা চলছিল। তবে সেই গুঞ্জনকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দুই অভিনেত্রীই।

রাকুল প্রীত সিং মনে করেন, এই ধরনের গল্পের বড় একটি অংশ তৈরি হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়ার অতিরঞ্জিত উপস্থাপনা থেকে। তার ভাষায়, একটি গল্প যখন বারবার বলা হয়, তখন মানুষ সেটিকে সত্যি বলে ধরে নিতে শুরু করে। তিনি বলেন, বাস্তবে একজন পেশাদার অভিনেত্রীর প্রধান লক্ষ্য থাকে সিনেমার সাফল্য। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব তৈরি করে কেউ নিজের কাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান না। বরং ভালো একটি সিনেমা নির্মাণে সবাই একসঙ্গে কাজ করেন।

রাকুল আরও বলেন, দর্শকেরা পর্দার বাইরের গল্প শুনতে পছন্দ করেন বলেই হয়তো এমন গুঞ্জন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। একজন অভিনেত্রী আরেকজনের প্রতিদ্বন্দ্বী নন; বরং সহকর্মী। তাদের মতে, একে অপরের ভালো অভিনয় পুরো সিনেমাকেই শক্তিশালী করে তোলে।

অন্যদিকে সারা আলি খানও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ‘পতি পত্নী অর ওহ ২’-এর পুরো ইউনিট ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। শুটিংয়ের সময় সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করেছেন। সারা বলেন, সেটে আমরা সত্যিই একটি বড় পরিবারের মতো ছিলাম। প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব আলাদা ছিল, কিন্তু সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ।

তিনি আরও বলেন, পরিচালক মুদাসসর আজিজ সিনেমার প্রতিটি চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছেন। তাই কার চরিত্র বড় বা কার দৃশ্য বেশি—এ ধরনের বিষয় নিয়ে কখনো কোনো রেষারেষি হয়নি। বরং সহ-অভিনেতা বা অভিনেত্রী ভালো অভিনয় করলে পুরো সিনেমাটিই আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বলিউডে নারী অভিনেত্রীদের সম্পর্ক নিয়ে ‘ক্যাটফাইট’ শব্দটি বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একসময় বিভিন্ন অভিনেত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন সংবাদমাধ্যমে বড় শিরোনাম হতো। তবে সময় বদলেছে। এখন অনেক অভিনেত্রীই প্রকাশ্যে বলছেন, এই ধারণা অনেকাংশেই পুরনো ও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ফল। আধুনিক বলিউডে অভিনেত্রীরা একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোদ্ধা হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউডে নারীকেন্দ্রিক সিনেমার সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে নারী অভিনেত্রীরাও নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ফলে আগের মতো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের গল্প দিয়ে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমছে। বরং এখন দর্শকেরা অভিনেতাদের কাজ, অভিনয় দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

‘পতি পত্নী অর ওহ ২’ সিনেমাটিও মুক্তির আগেই বেশ আলোচনায় এসেছে। আয়ুষ্মান খুরানা, সারা আলি খান ও রাকুল প্রীত সিং অভিনীত এই সিনেমা আগামী ১৫ মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ছবিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয় রাজ ও তিগমাংশু ধুলিয়া। নির্মাতাদের আশা, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদনধর্মী সিনেমা হিসেবে দর্শকদের ভালো সাড়া পাবে।

সিনেমাটির প্রচারণা ঘিরেও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, প্রচারণামূলক ভিডিও ও অনুষ্ঠানগুলোতে অভিনেতাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শকদের নজর কাড়ছে। বিশেষ করে সারা ও রাকুলের বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন অনেকের কাছেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিনোদনবিশ্বের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের স্পষ্ট বক্তব্য শুধু একটি গুঞ্জনের জবাব নয়; বরং বলিউডের পরিবর্তিত সংস্কৃতিরও প্রতিফলন। যেখানে নারী অভিনেত্রীরা নিজেদের অবস্থান, সম্পর্ক ও পেশাদারিত্ব নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসীভাবে কথা বলছেন।

সারা আলি খান ও রাকুল প্রীত সিংয়ের বক্তব্যে সেটিই স্পষ্ট হয়েছে। তারা দুজনই বোঝাতে চেয়েছেন, পর্দার বাইরের কৃত্রিম দ্বন্দ্বের গল্পের চেয়ে বাস্তবের সহযোগিতা ও সম্মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শেষ পর্যন্ত একটি সিনেমার সাফল্য নির্ভর করে পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন গুঞ্জন জন্ম নেয়, সেখানে দুই অভিনেত্রীর এই বক্তব্য অনেকের কাছেই স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। বিশেষ করে তরুণ দর্শকেরা মনে করছেন, এই ধরনের ইতিবাচক সম্পর্ক বলিউডের কর্মপরিবেশকে আরও স্বাস্থ্যকর ও অনুপ্রেরণাদায়ক করে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত