ভিসা বন্ড অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানোর নতুন সুবিধা চালু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৭ বার
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিদেশে কাজ বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজেই বিদেশে পাঠানো যাবে। এতদিন এই প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় অনেক আবেদনকারীকে ভোগান্তিতে পড়তে হতো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ সোমবার এক সার্কুলারের মাধ্যমে নতুন এই নির্দেশনা জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বিদেশে ভিসা প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি বিদেশি ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে ভিসা বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে বাধ্য হবেন, তাদের পক্ষে এখন থেকে ব্যাংকগুলো সরাসরি সেই অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। এতে আবেদনকারীদের আর আলাদা জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো চাইলে গ্রাহকের নামে আন্তর্জাতিক বা ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে। এসব কার্ডে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রিলোড করে বিদেশি ভিসা সংক্রান্ত ফি বা বন্ড পরিশোধ করা যাবে। পাশাপাশি যাদের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ড রয়েছে, তারা সেই কার্ডেও ভ্রমণ কোটার আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ লোড করতে পারবেন।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই অর্থ শুধুমাত্র ভিসা বন্ড বা সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি ডিপোজিট পরিশোধের কাজেই ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনো খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা বা ইআরকিউ হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট বা আরএফসিডি হিসাব এবং এসব হিসাবের বিপরীতে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমেও এই সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। ফলে যাদের বৈধ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব রয়েছে, তারা আরও সহজে এই সেবা নিতে পারবেন।

অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপসহ যেসব দেশে ভিসা প্রক্রিয়ায় আর্থিক গ্যারান্টি বা ডিপোজিট প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হবে। আগে যেখানে বিভিন্ন দফতর ও ব্যাংকের মধ্যে ঘুরতে হতো, এখন তা অনেকটাই ডিজিটাল ও কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অর্থনীতি গবেষক বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর লাখো মানুষ বিদেশে কাজের জন্য যান। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা অনেক সময় তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের নীতিগত পরিবর্তন সেই বাধা কমাতে সাহায্য করবে।

প্রবাসী কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার কিছু দেশে কাজ বা পড়াশোনার ক্ষেত্রে সিকিউরিটি ডিপোজিটের শর্ত থাকে। অনেক সময় সময়মতো অর্থ পাঠাতে না পারায় আবেদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় বা বাতিলও হয়ে যায়। নতুন এই ব্যবস্থা সেই সমস্যা অনেকাংশে দূর করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বৈদেশিক লেনদেনকে আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শুধু ভিসা প্রক্রিয়াই সহজ হবে না, বরং অবৈধ বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের ঝুঁকিও কমবে।

অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, নতুন এই নির্দেশনার ফলে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের পরিধিও বাড়বে। একই সঙ্গে গ্রাহকসেবা উন্নত হবে এবং ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাও আরও আধুনিক হবে।

ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক গ্যারান্টি, যা বিদেশে ভিসা আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের নিশ্চয়তা হিসেবে জমা দিতে হয়। অনেক দেশ এই বন্ড দাবি করে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে ভিসাধারী ব্যক্তি নির্ধারিত সময় শেষে নিজ দেশে ফিরে আসবেন। সাধারণত শর্ত পূরণ হলে এই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত ভোগান্তিই কমবে না, বরং বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়া কর্মী ও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসী ও বিদেশগামীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জটিলতা কমিয়ে এখন ব্যাংকের মাধ্যমেই সহজে ভিসা বন্ড পরিশোধের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা একে সময়োপযোগী সংস্কার বলেই মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত