সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান ধর্মমন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় নিজের অবস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে হলেও দেশের কোনো সংখ্যালঘু নাগরিকের ওপর যাতে কোনো ধরনের অত্যাচার বা নির্যাতন না হয়, তা তিনি নিশ্চিত করতে চান।

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী। সভায় তিনি দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি, হজ ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছাড়ব, তবুও এদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো অত্যাচার-নির্যাতন হতে দেবো না। তারা আমাদেরই নাগরিক, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশে কোনো ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা বৈরী আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মমন্ত্রী বলেন, “কেউ কেউ বাইরের দেশের ঘটনার অজুহাতে দেশের ভেতরে বিভাজন তৈরি করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা সবাই একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই।”

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, একটি মহল গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, যারা অতীতে ক্ষমতার স্বাদ নিতে পারেনি, তারা এখন নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে বাধা সৃষ্টি করাই এ ধরনের অপতৎপরতার উদ্দেশ্য।

ধর্মমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বলেন, বর্তমান সরকার ধর্মীয় ও সামাজিক খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে হজ ব্যবস্থাপনায় খরচ কমানোসহ সেবার মান উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, এবারের হজ মৌসুমে খরচ কিছুটা কমানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার চেষ্টা চলছে, যাতে হাজিরা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা গ্রহণ করেছে। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, অপপ্রচার, গুজব এবং সামাজিক অস্থিরতা রোধে কার্যকর আইন থাকা জরুরি। তার মতে, “আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি, কিন্তু সেই স্বচ্ছতা যেন অপপ্রচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্যও ব্যবস্থা থাকতে হবে।”

ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে ভালো মানুষদের সুরক্ষা এবং অনলাইন অপতথ্য প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। প্রযুক্তির যুগে তথ্যের অপব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ধর্মমন্ত্রীকে দেশের সাম্প্রতিক সামাজিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি, হজ ব্যবস্থাপনা, এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। ধর্মমন্ত্রী সব প্রশ্নের জবাবে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই বাংলাদেশের মূল শক্তি।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

ধর্মমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে সবাইকে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কোনো বিভাজন নয়, বরং ঐক্যই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ভিত্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত