জাবিতে ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ২৫ দিনের ছুটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বর।

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদ-উল-আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) টানা ২৫ দিনের দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে একাডেমিক কার্যক্রমের সাময়িক বিরতির বাস্তবতা সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২১ মে থেকে এই ছুটি কার্যকর হবে এবং তা চলবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২১ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ২৪ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে মোট ১৬ দিনের ছুটি থাকবে। ছুটির এই সময়সূচি অনুযায়ী জাবি কার্যত দীর্ঘ সময়ের জন্য স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ছুটিকালীন সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু দপ্তর সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে। বিশেষ করে জরুরি প্রশাসনিক কাজ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান থাকবে।

জাবির এই ছুটির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, ঈদের ছুটির সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যুক্ত হওয়ায় এটি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি ভালো সুযোগ। বিশেষ করে যারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্যাম্পাসে পড়তে আসেন, তাদের জন্য এটি বাড়িতে ফেরার দীর্ঘ সময় হিসেবে কাজ করবে।

অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটি একাডেমিক ক্যালেন্ডারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ ছুটি শেষে ক্লাস ও পরীক্ষা সময়মতো শেষ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তারা মনে করেন, নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ছুটির সময়সূচি আরও সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদ-উল-আজহার মতো বড় ধর্মীয় উৎসব এবং গ্রীষ্মকালীন তীব্র গরম বিবেচনায় এই ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিশ্রাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দিতেই এই উদ্যোগ।

প্রশাসন আরও জানিয়েছে, ছুটি শেষ হওয়ার পর দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ছুটির আগে ও পরে ক্লাস ও পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয় করে শিক্ষাবর্ষ স্বাভাবিক রাখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, দীর্ঘ ছুটি একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিশ্রামের সুযোগ দেয়, অন্যদিকে একাডেমিক চাপও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে গবেষণা ও সেমিস্টারভিত্তিক পড়াশোনায় সময় ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছুটির খবর শেয়ার করে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেউ কেউ এটিকে “প্রত্যাশিত স্বস্তির সময়” হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে “পড়াশোনার গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি” হিসেবে উল্লেখ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ঈদের আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি আবাসিক হলগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী খালি করা হবে এবং হল প্রশাসন ছুটিকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি একটি প্রচলিত বিষয় হলেও এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতির ওপর পড়ে। তাই ছুটির সময়কাল ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারের মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা আরও বলেন, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় অনলাইন ক্লাস বা বিকল্প একাডেমিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘ ছুটির প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ২৫ দিনের ছুটি শিক্ষার্থীদের জন্য একদিকে আনন্দের সময় হলেও অন্যদিকে একাডেমিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, ছুটির পর শিক্ষার্থীরা নতুন উদ্যমে ক্লাসে ফিরে আসবে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত