আরও দুই মামলায় খায়রুল হকের জামিন অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানায় দায়ের করা পৃথক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার মধ্যে নতুন করে দুই মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আপাতত তার কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

আইনজীবীরা জানান, নতুন দুই মামলায় জামিন পাওয়ার ফলে তার মুক্তির পথে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে অন্যান্য মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় পরবর্তী পরিস্থিতি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল জুলাই আন্দোলনের সময় দায়ের করা একাধিক মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখে। ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখা হয়।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ তখন রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে দেয়। এর আগে হাইকোর্ট বিভিন্ন মামলায় জামিন মঞ্জুর করলেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে তা স্থগিতের আবেদন করে।

গত ৮ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ চারটি মামলায় রুল জারি করে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায়ও তিনি জামিন পান। এসব জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।

পরে নিম্ন আদালতে আরও দুইটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়, যেগুলোতেই মঙ্গলবার নতুন করে জামিন মঞ্জুর করা হলো।

আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলা, যা শাহবাগ, ফতুল্লা ও বন্দর থানায় পৃথকভাবে করা হয়। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা করে।

আইনগত নথিপত্র অনুযায়ী, এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। পরবর্তীতে একাধিক মামলায় আদালত জামিনের পক্ষে রায় দেয় এবং কয়েকটি মামলায় রুল জারি করে।

২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এ বি এম খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তার নিয়োগ কার্যকর হয়। তিনি ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যান। পরবর্তীতে তিনি তিন দফায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের সাবেক শীর্ষ পদে থাকা একজন ব্যক্তিকে ঘিরে একাধিক মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক মামলায় জামিন ও আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের কারণে তার আইনগত অবস্থান এখন আপাতভাবে স্বস্তিদায়ক হলেও মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হবে না।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব মামলা ও আদালতের সিদ্ধান্ত দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সর্বশেষ দুই মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তার আইনগত পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে চলমান অন্যান্য মামলার ভবিষ্যৎ রায়ই নির্ধারণ করবে তার পরবর্তী আইনি অবস্থান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত