আগে নিজেদের ঠিক করে পরে বিএনপিকে দোষ দিন: রাশেদ খাঁন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন কেবল মত প্রকাশের জায়গা নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা, পাল্টা বার্তা এবং দলীয় অবস্থান তুলে ধরার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্ট অনেক সময় নতুন বিতর্ক, আলোচনা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের জন্ম দেয়। এবার এমনই এক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নিজেদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘স্মার্টনেস’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একই ধরনের আচরণকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক আবেগ ও দলীয় নেতাদের প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসা সব দলেই থাকে, কিন্তু সেটিকে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করা হচ্ছে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ যখন রিকশায় চলাফেরা করেন, তখন তার অনুসারীরা রিকশার পেছনে দৌড়ালে সেটিকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে না। অথচ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর গাড়ির নিরাপত্তা ঘিরে নেতাকর্মীদের আবেগী আচরণ নিয়ে সমালোচনা করা হয়। তার দাবি, রাজনৈতিক সমর্থকদের আবেগকে একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপিপন্থি অনেক কর্মী তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থকদের আবেগকে সবসময় নেতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে জামায়াত ও শিবিরের সমর্থকরা তার বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন।

পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে কিছু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা অতিরিক্ত ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্তকে অতি মাত্রায় জুম করে প্রচার করছে। তার মতে, এতে ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক কিছু ভাইরাল ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজনৈতিক মিছিল কিংবা জনসমাগমে ধাক্কাধাক্কি বা বিশৃঙ্খলা অনেক সময় স্বাভাবিক ঘটনা হলেও সেটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

বিশেষ করে নারীদের নিয়ে তৈরি কিছু ভিডিও এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির দৃশ্য ধারণের ধরন নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ শুধুমাত্র বাড়তি ভিউয়ের আশায় বিতর্কিতভাবে ভিডিও উপস্থাপন করছে, যা সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব অনেক বেড়েছে। আগে রাজনৈতিক বক্তব্য মূলত সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা টেলিভিশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন ফেসবুক পোস্ট, লাইভ ভিডিও কিংবা ভাইরাল ক্লিপ জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে রাজনৈতিক নেতারা অনেক সময় সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কটাক্ষ ও অনলাইন প্রচারণা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও আবেগনির্ভর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দলীয় নেতাদের ঘিরে কর্মীদের আবেগ, নিরাপত্তা এবং আচরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।

রাশেদ খাঁনের পোস্টে ‘আগে নিজেদের ঠিক করা উচিত, পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের দোষ ধরিয়েন’—এই বক্তব্যটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি দ্বৈত মানসিকতার অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজেদের দলের ভেতরের আচরণ ও সংস্কৃতি পর্যালোচনা না করে অন্য দলের সমালোচনা করা উচিত নয়।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য ভবিষ্যতে বিরোধী রাজনীতির ভেতরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। কারণ বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ইস্যুতে কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রায়ই সামনে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনীতির এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন শুধু মাঠের রাজনীতি নয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও দলীয় ভাবমূর্তি ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নেতাদের প্রতিটি বক্তব্য, পোস্ট কিংবা মন্তব্য মুহূর্তেই জনআলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে।

রাশেদ খাঁনের সাম্প্রতিক এই পোস্টও সেই বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক সমর্থকদের আচরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা এবং ডিজিটাল প্রচারণার নৈতিকতা—সব মিলিয়ে তার বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত