গজারিয়ায় ১৩ কিলোমিটার যানজটে জনদুর্ভোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
গজারিয়ায় ১৩ কিলোমিটার যানজটে জনদুর্ভোগ

প্রকাশ: ২৪ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আবারও ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো মহাসড়ক। ভোর থেকে শুরু হওয়া এই যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তীব্র আকার ধারণ করে, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন চালক।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কের Dhaka–Chattogram Highway–এর কুমিল্লামুখী লেনে গজারিয়া অংশজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস এবং ব্যক্তিগত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় চরম হতাশা ও দুর্ভোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের দীর্ঘ সারি থমকে আছে। কোথাও কোথাও যানবাহনগুলো একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে। গরমের মধ্যে গাড়ির ভেতর আটকে থাকা যাত্রীদের অনেকেই ক্লান্তি ও অস্বস্তিতে ভুগছেন। শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন বলে জানা গেছে।

যানজটে আটকে পড়া ট্রাকচালক শামীম মিয়া জানান, তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু গজারিয়ার জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছেন। তিনি বলেন, ভোর থেকে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। চোখে ঘুম, ক্লান্তিতে কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। শুনেছি দাউদকান্দি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

একইভাবে বাসচালক শহিদ মিয়া জানান, বালুয়াকান্দি এলাকা থেকেই তিনি যানজটে আটকে আছেন। তিনি বলেন, কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব, তা বলা যাচ্ছে না। সড়কে এমন অবস্থা হলে সময়মতো যাত্রী পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

যাত্রীদের মধ্যেও চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপ দেখা গেছে। দূরপাল্লার এক বাসযাত্রী বলেন, এই মহাসড়কে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে ছুটির দিন বা ঈদ মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যেন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই মহাসড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তা দীর্ঘ যানজটে রূপ নেয়। ধীরে ধীরে এই যানজট গজারিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

মহাসড়কের এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের প্রধান পথ হওয়ায় এখানে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই তার প্রভাব পড়ে পুরো রুটে। ফলে দুর্ঘটনা বা যানবাহন বিকল হলে দ্রুত যানজট সৃষ্টি হওয়া এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ জানান, দাউদকান্দি এলাকায় দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফলে গজারিয়া অংশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুতই যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের এই অংশে অবকাঠামোগত সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের চাপ ও সড়কের সংকীর্ণ অংশগুলোতে দ্রুত জটলা তৈরি হয়ে যায়।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। এই রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য পরিবহন হয়। তাই এখানে যানজট শুধু যাত্রী ভোগান্তি নয়, বরং অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কের কিছু অংশে উন্নয়ন কাজ, বিকল্প সার্ভিস লেনের অভাব এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা না থাকলে যানজট আরও দীর্ঘায়িত হয়।

এদিকে যানজটে আটকে থাকা বহু যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে বলছেন, দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকায় খাবার ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শিশুরা কাঁদছে, বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

তবুও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কেন এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে বারবার একই ধরনের যানজটের পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং এর স্থায়ী সমাধান কবে হবে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে এমন দুর্ভোগ চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গজারিয়া অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যাত্রী ও চালকদের আশা, দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে মহাসড়ক আবারও স্বাভাবিক গতিতে চলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত