শ্রীনগরের টিনশেড মার্কেটে ভয়াবহ আগুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
শ্রীনগরের টিনশেড মার্কেটে ভয়াবহ আগুন

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে একটি টিনশেড মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০টি দোকান পুড়ে গেছে। ভোররাতে আকস্মিক এই আগুনে মুহূর্তের মধ্যে দোকানগুলোতে থাকা মালামাল ও কাঠামো ভস্মীভূত হয়ে যায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে আশপাশের আরও অনেক দোকান।

জেলার শ্রীনগর উপজেলার আটপাড়া এলাকায় অবস্থিত Shreenagar Cold Storage area–এর সামনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৪টা ৪৯ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোরের নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎ করেই মার্কেটের একটি অংশ থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং টিনশেড দোকানগুলো দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

খবর পাওয়ার পরপরই মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পাশের দোকানগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়, ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত পানি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ খালি থাকলেও বাকি পাঁচটি দোকানে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী ছিল। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে দুটি মুদি দোকান, দুটি চায়ের দোকান এবং একটি সিএনজি সার্ভিস সংশ্লিষ্ট দোকান। দোকানগুলো টিনশেড হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই সবকিছু গ্রাস করে নেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুর রশিদ, রহিম, আবুল, বাবুল, জানে আলম, আলাউদ্দিন, মিন্টু, আলী আকবর, বাচ্চু ও রিপন। তারা জানান, ভোরে হঠাৎ আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখেন তাদের জীবনের সঞ্চয় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কেউ কেউ কাঁদতে কাঁদতে জানান, দোকানের মালামাল ও পুঁজি হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

একজন দোকান মালিক বলেন, “রাতে সব ঠিকঠাক ছিল। সকালে এসে দেখি সব শেষ। চোখের সামনে নিজের জীবনের অর্জন পুড়ে গেল, কিছুই করতে পারিনি।” আরেকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান, ঈদ ও মৌসুমকে সামনে রেখে দোকানে নতুন পণ্য তোলা হয়েছিল, যা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের মতে, শ্রীনগর এলাকায় এ ধরনের টিনশেড দোকানগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। অধিকাংশ দোকানে নেই পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ। ফলে সামান্য ত্রুটি থেকেই বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগকে কারণ হিসেবে ধরা হলেও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তারা স্থানীয় দোকান মালিকদের অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে টিনশেড মার্কেটে নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা এবং জরুরি অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভোরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশপাশের মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাজারটি পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

অর্থনীতিবিদ ও স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, ছোট ব্যবসায়ীরা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন অগ্নিকাণ্ডে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়, যা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগে। অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আর্থিক সহায়তা না পেয়ে ব্যবসা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

শ্রীনগরের এই অগ্নিকাণ্ড আবারও মনে করিয়ে দিল, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা কতটা বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ বাজার এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত