নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ ৯ রোহিঙ্গা আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার
নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ ৯ রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার ইয়াবাসহ ৯ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে সীমান্ত পিলার ৪৭/১-এস এলাকায় চালানো এই অভিযানে মিয়ানমার থেকে আসা একটি চক্রের সক্রিয় সদস্যদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সীমান্ত এলাকাটি Naikhongchhari border area–এর জারুলিয়াছড়ি সীমান্ত পিলার ৪৭/১-এস সংলগ্ন এলাকা। স্থানীয় সময় বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেয় এবং চোরাচালান চক্রকে নজরদারিতে রাখে।

বিজিবি জানিয়েছে, অভিযানের সময় চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা তিনটি প্যাকেট ফেলে যায়, যেগুলো পরবর্তীতে উদ্ধার করে তল্লাশি চালানো হলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়। উদ্ধার করা ইয়াবার পরিমাণ আনুমানিক ৩০ হাজার পিস বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়। তারা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে বিজিবি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুর রফিক, নুর মোহাম্মদ, মো. শহিদুল আমীন, মো. ইকবাল হোসেন, মো. খালেক হোসেন, মো. আহসান হাবিব, মো. আরব এবং মো. হাসোন আলীসহ আরও কয়েকজন।

১১ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, একটি চক্র সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদক সংগ্রহ করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ফেলে যাওয়া প্যাকেট থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং সঙ্গে থাকা সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে তারা মিয়ানমার থেকে পাচার করা ইয়াবা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিল। পুরো চক্রটি একটি সংগঠিত মাদকপাচার নেটওয়ার্কের অংশ কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আটক ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারের এই ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়েও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না এই চোরাচালান চক্রকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় রাতে ও ভোরের দিকে প্রায়ই সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। তবে বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানোর কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বড় চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে।

মাদক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইয়াবা পাচারের এই নেটওয়ার্ক শুধু স্থানীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত। সীমান্ত ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে আসা এই মাদক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, যা তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচার ও অস্ত্র চোরাচালান রোধেও নিয়মিত নজরদারি চলছে।

লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, বিজিবি মাদকবিরোধী অবস্থানে সর্বোচ্চ কঠোরতা বজায় রেখে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ দমন করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করাই বিজিবির অন্যতম অগ্রাধিকার। তাই সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এই মাদক চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু অংশ মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে—এটি একটি উদ্বেগজনক বিষয়। তবে তারা এটাও বলছেন যে, এটি পুরো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ বজায় রেখেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

নাইক্ষ্যংছড়ির এই অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে, সীমান্তে মাদক পাচার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বিজিবির নিয়মিত অভিযান চলমান থাকায় মাদক চক্রগুলো কিছুটা হলেও চাপে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত