জঙ্গল সলিমপুরে ক্যাম্পে হামলা, আটক ৩০

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
জঙ্গল সলিমপুরে ক্যাম্পে হামলা, আটক ৩০

প্রকাশ: ২৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর নবনির্মিত একটি ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দিবাগত রাতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা নির্মাণাধীন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয় এবং যোগাযোগের একাধিক রাস্তা কেটে দেয়, যার ফলে যৌথবাহিনীর চলাচল সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

ঘটনার পর সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী দ্রুত অভিযান শুরু করে। অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ থেকে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, রাত আনুমানিক ১টার পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সদ্য স্থাপিত র‍্যাব ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা আধুনিক অস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে র‍্যাব সদস্যরা রাবার বুলেট ব্যবহার করেন, তবে হামলাকারীরা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে।

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা বুলডোজার ব্যবহার করে নির্মাণাধীন ক্যাম্পের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। একই সময়ে তারা আশপাশের যাতায়াতের সড়ক কেটে দেয়, যার ফলে যৌথবাহিনীর যানবাহন ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। এই সুযোগে হামলাকারীদের একটি অংশ এলাকা থেকে সরে যেতে সক্ষম হয়।

যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ মিলে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে রাতভর অভিযান চালায়। তবে কাটা রাস্তার কারণে অনেক স্থানে পায়ে হেঁটে অভিযান পরিচালনা করতে হয়। এতে কিছুটা সময় ক্ষয় হলেও এলাকা পুনরায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানানো হয়েছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলার জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপকে দায়ী করা হচ্ছে, যাদের ‘ইয়াসিন বাহিনী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যৌথবাহিনীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রুপটি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং পূর্ববর্তী অভিযানে তারা এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়েছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, হামলাকারীরা যে ক্যাম্পটি ধ্বংস করেছে সেটি প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। ঈদের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা ছিল বলে জানা যায়। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে, তবে আমাদের কোনো সদস্য আহত হয়নি। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আর কোনো অবস্থান থাকতে দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে একটি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি নিয়ে গঠিত এই এলাকায় অতীতে ভূমিদস্যুতা, অবৈধ দখল ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তখন থেকে এলাকাটিতে নতুন করে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছিল।

সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাবের একটি নতুন ক্যাম্প নির্মাণ শুরু হয়েছিল আলীনগর এলাকায়, যা শেষ পর্যায়ে ছিল বলে জানা গেছে। এই ক্যাম্পটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল।

তবে সর্বশেষ হামলায় সেই উন্নয়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এই ধরনের হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা। তবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় দীর্ঘদিনের অবৈধ প্রভাব ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র পুরোপুরি নির্মূল করতে সময় লাগবে। তবে সাম্প্রতিক অভিযানগুলো প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানকে স্পষ্ট করছে।

সব মিলিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা এবং পরবর্তী অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে এলাকাটি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো মূল্যে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত