যমুনা সেতুতে একদিনে ৩.২৪ কোটি টোল আদায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৮ বার
যমুনা সেতুতে একদিনে ৩.২৪ কোটি টোল আদায়

প্রকাশ: ২৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ঘরমুখো মানুষের ঢল, অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল এবং ঈদযাত্রার প্রস্তুতির কারণে যমুনা সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে রেকর্ড পরিমাণ টোল আদায় হয়েছে।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। ঈদকেন্দ্রিক এই চাপকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম উচ্চমাত্রার যানবাহন প্রবাহ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সময়ের মধ্যে সেতুর পূর্ব প্রান্ত, অর্থাৎ টাঙ্গাইল অংশে অবস্থিত টোল প্লাজা দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২২ হাজার ১১২টি যানবাহন পারাপার হয়। এ অংশ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ ৩৫ হাজার ২৫০ টাকা। অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জ অংশের টোল প্লাজা দিয়ে ঢাকাগামী লেনে ১৭ হাজার ৮০৭টি যানবাহন পারাপার হয়, যেখানে টোল আদায় হয় ১ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা।

ঈদকে সামনে রেখে সাধারণত এই রুটে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের বড় অংশ যমুনা সেতু ব্যবহার করায় এটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কপথগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই মহাসড়কে বাড়তি যানবাহন চলাচল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী Syed Riaz Uddin জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং দ্রুত টোল আদায় নিশ্চিত করতে সেতু কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক বুথসহ মোট ১৮টি বুথ চালু রাখা হয়েছে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।

তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সেতু কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট মাঠে কাজ করছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হবে।

ঈদ মৌসুমে যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহনের এই উচ্চ প্রবাহ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার পেছনে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আন্তঃজেলা যোগাযোগের ওপর নির্ভরতা বাড়াকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের সময় এ ধরনের চাপ সামাল দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু টোল বুথ বাড়ানো নয়, বরং মহাসড়কের লেন সম্প্রসারণ, বিকল্প রুট উন্নয়ন এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রতি ঈদেই যমুনা সেতু এলাকায় যানজট ও চাপ তৈরি হবে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল চলছে। বিশেষ করে রাতের সময় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেশি থাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে।

যাত্রীদের অনেকে জানিয়েছেন, ঈদযাত্রার আগে সেতু এলাকায় কিছুটা চাপ থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়লে ধীরগতি বা যানজটের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যমুনা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগের প্রধান সেতুবন্ধন। তাই এখানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যমুনা সেতু এলাকায় যানবাহনের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের বিশেষ ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত