গণআন্দোলনে নজরুলের ভূমিকা স্মরণ করলেন রিজভী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৭ বার
গণআন্দোলনে নজরুলের ভূমিকা স্মরণ করলেন রিজভী

প্রকাশ: ২৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও চেতনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব Ruhul Kabir Rizvi। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নজরুল ছিলেন অনুপ্রেরণার অন্যতম প্রধান উৎস।

সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় কবি Kazi Nazrul Islam-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকে মানবতা, সাম্য এবং ন্যায়বিচারের চেতনার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, নজরুলের সাহিত্য কেবল সাহিত্যিক সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিরোধের ভাষা হিসেবে কাজ করেছে। তার মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামে নজরুলের লেখা মানুষকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে এবং সংগ্রামের শক্তি জুগিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্য ও মানবতার যে বার্তা নজরুল তার লেখার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে অন্যায়, বৈষম্য ও দমননীতির বিরুদ্ধে মানুষের চেতনাকে জাগ্রত করতে নজরুলের কবিতা ও গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রিজভীর বক্তব্যে উঠে আসে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামে নজরুলের চেতনা আন্দোলনকারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তার ভাষায়, “অন্যায়-অত্যাচার ও অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূলমন্ত্র আমরা নজরুলের কাছ থেকেই পেয়েছি।”

নজরুল জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকেই শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়। জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক A S M Obaidul Islamসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপাচার্য ও উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন, নজরুল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিদ্রোহ, মানবতা ও সাম্যের যে ধারা তৈরি করেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। তার সাহিত্য আজও সামাজিক অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

এছাড়া দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনও জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায়। নজরুলের কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নজরুল ইসলামের সাহিত্যকে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের বক্তব্য ও আদর্শ তুলে ধরার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে এসেছে। বিশেষ করে তার বিদ্রোহী কবিতা ও সাম্যবাদী চিন্তা রাজনৈতিক আন্দোলনের ভাষাগত শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

তারা মনে করেন, নজরুল কেবল একজন কবি নন, বরং উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি প্রতীক, যার সাহিত্য মানুষকে প্রতিবাদ ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।

সব মিলিয়ে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে। নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন আজও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যায় আলোচনায় ফিরে আসে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত