সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

ঈদের দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা, জানালো আবহাওয়া অফিস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ২৪ বার
ঈদের দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা, জানালো আবহাওয়া অফিস

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের আকাশে আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা কয়েক দিন ধরে বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পর ঈদের দিনেও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য দিনে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, চলমান মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণেই এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে ঈদের দিন আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও বৃষ্টির কারণে চলাচল ও ঈদের জামাত আয়োজন কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা ঈদের পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমে আসলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে তা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

তিনি আরও জানান, জুন মাসের শুরুতেই বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লঘুচাপের গতিপথের ওপর নির্ভর করবে দেশের আবহাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতি। যদি এটি মিয়ানমারের দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে মূলত চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হবে। তবে এটি বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হলে সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় হঠাৎ করে বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের ঘটনা বাড়তে পারে। ফলে ঈদের সময় যারা গ্রামে বা দূরপাল্লার যাত্রায় থাকবেন, তাদের জন্য বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে যানজট ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। এর ফলে ঈদের আগ মুহূর্তে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা কিছুটা ভোগান্তির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুন মাস সাধারণত বাংলাদেশের বর্ষাকালের শুরু হিসেবে ধরা হয়। তাই এই সময়টায় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হলেও কখনো কখনো তা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি এই সময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

এদিকে আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে ঈদের দিনে বৃষ্টি হলে নামাজ ও কোরবানির কার্যক্রমে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বৃষ্টি হলে গরমের তীব্রতা কমবে এবং ঈদের পরিবেশ কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে ঈদুল আজহার দিন দেশের আকাশে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় প্রস্তুতি ও পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করবে পরবর্তী কয়েক দিনের পরিবর্তনের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত