সর্বশেষ :

জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ২৮ বার
জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ০২ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে সিলেটের বাদাঘাটে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ফাহিমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, বর্তমানে দেশ তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে না এবং জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, তার সম্পূর্ণ বিপরীতে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। তার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সিলেট সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময় ডা. শফিকুর রহমান বাদাঘাটে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত শিশু ফাহিমার বাড়িতে যান। বাদাঘাটে চাচার হাতে নিজের ভাতিজি ফাহিমার এমন নৃশংস মৃত্যু কেবল ওই পরিবারকেই নয়, বরং পুরো সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন জামায়াত আমির। তিনি নিহত শিশুর মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি এ ঘটনাকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে না দেখে সামাজিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তার চরম ঘাটতির একটি নজির হিসেবে উল্লেখ করেন। শিশু ফাহিমার হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামানো অসম্ভব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশ পরিচালনার বর্তমান ধারার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ ভালো নেই। আমরা যেভাবে রাষ্ট্র ও সমাজকে দেখার প্রত্যাশা করেছিলাম, বর্তমান বাস্তবতা তার থেকে অনেক দূরে।’ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার জনগণের ওপর যে করের বোঝা চাপিয়েছে তা অত্যন্ত অমানবিক। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ আজ পিষ্ট হচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়ানোকে তিনি জনগণের ওপর ‘জুলুম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান সরকার জনগণের নাভিশ্বাস ওঠার মতো সিদ্ধান্তগুলোই একের পর এক চাপিয়ে দিচ্ছে।

জামায়াত আমিরের সিলেটে এই সফর রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডা. শফিকুর রহমান সারা দেশে জনগণের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গী হতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তার এই সফরে সিলেটে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বাদাঘাটের এই ঘটনাটি সিলেটজুড়ে শোকের আবহ তৈরি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ কাজ করছে। স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, প্রশাসন যদি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন। ডা. শফিকুর রহমান নিহত ফাহিমার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলীয়ভাবে সব ধরণের সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তা নিয়ে নাগরিক সমাজে নানা বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব যেভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে, বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি তার বক্তব্যে এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে, রাষ্ট্রক্ষমতা কেবল প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমেই পরিচালিত হয় না, বরং তার পেছনে জনমতের একটি ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে জনসমর্থন ধরে রাখতে পারে না। তার এই সমালোচনা থেকে বোঝা যায়, জামায়াতে ইসলামী রাজপথে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনদাবি নিয়ে জোরালোভাবে সোচ্চার হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মানবিক বিপর্যয়ের এই সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের এমন উপস্থিতি মানুষের মনে কিছুটা সাহস জোগায়। বিশেষ করে বাদাঘাটের মতো এলাকায় যেখানে পরিবারগুলো অসহায় অবস্থায় থাকে, সেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহানুভূতি ও বিচারের নিশ্চয়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি আশা জাগায়। ডা. শফিকুর রহমান কেবল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইলেই হবে না, বরং রাষ্ট্র কীভাবে অপরাধের এই উৎসগুলোকে নির্মূল করবে, তা নিয়েও সরকারের প্রতি কঠোর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার যে সংস্কৃতি, তা বন্ধ না হলে এমন নৃশংসতা চলতে থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

পরিশেষে বলা যায়, ডা. শফিকুর রহমানের সিলেট সফর ও তার সাম্প্রতিক বক্তব্য একটি গভীর বার্তা বহন করে। একদিকে দেশের সামাজিক নিরাপত্তার ভঙ্গুর দশা, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে জনগণের ওপর চাপ—এই দুই সংকট মিলে দেশকে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তার এ জাতীয় বক্তব্য ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরির ইঙ্গিত দিতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। শিশু ফাহিমার হত্যাকাণ্ড এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও জননীতির সমালোচনা—উভয়ই এখন ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে মাঠের রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তাপ ছড়াতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত