নতুন নেতৃত্বে যুবদল: ঘোষিত ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ১০ বার
নতুন নেতৃত্বে যুবদল: ঘোষিত ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

প্রকাশ: ৪ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী যুব সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দলটির ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এই কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কর্তৃক স্বাক্ষরিত এই কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের মুখে যুবদলের এই নতুন কমিটি দেশের রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের ওপর অর্পিত হয়েছে সংগঠনের মূল পরিচালনার দায়িত্ব। ১৫১ সদস্যের এই বিশাল কমিটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরীক্ষিত এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে থাকা তরুণ নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সহ-সভাপতি হিসেবে রেজাউল কবীর পল, জিয়াউর রহমান জিয়া, কামাল আনোয়ার আহাম্মদসহ অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুনদের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। এতে সিনিয়র সহ-সভাপতি থেকে শুরু করে দফতরসহ বিভিন্ন দায়িত্বে যারা এসেছেন, তাদের অধিকাংশই বিগত দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন তারেক, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম সোহাগসহ একঝাঁক প্রতিশ্রুতিশীল নেতা। তারা সংগঠনের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. কামরুজ্জামান জুয়েল এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিশাল বহরে নতুন অনেক মুখের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে। কমিটিতে প্রচার, সাহিত্য ও প্রকাশনা, তথ্য ও গবেষণা, আইন বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিবেদিতপ্রাণ তরুণদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে খায়রুজ্জামান লিঙ্কন, এ আর মামুন খান এবং মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদের মতো নেতাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে থাকা নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন কমিটির কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, এতে কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বরং বিদেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বও রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবু সাঈদ আহমেদ এবং যুক্তরাজ্য থেকে রহিম উদ্দিনকে সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে, যা প্রবাসীদের মাঝে সংগঠনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে কমিটিতে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদকদের মতো নতুন নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে, যা আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবদলকে কতটা প্রস্তুত করছে তা স্পষ্ট করে দেয়। এটি নির্দেশ করে যে, যুবদল কেবল গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারায় নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর ও সচেতন রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে।

যুবদলের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুবদল বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই শক্তিকে সুসংগঠিত করতে এই কমিটি ঘোষণার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে সামনে থাকা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে মুন্না-নয়ন জুটি কতটা সফল হয়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃনমূল পর্যন্ত কর্মীরা। ঘোষিত এই ১৫১ সদস্যের কমিটিতে থাকা সদস্যরা প্রতিটি জেলার কর্মীদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করবেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

আইন বিষয়ক সম্পাদক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং ত্রাণ ও পুর্নবাসন সম্পাদকদের পর্যন্ত বিস্তৃত এই কমিটি সংগঠনটির প্রতিটি শাখা যেন সচল থাকে তা নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ডা. গালিব হাসান ও ডা. বেলাল হোসেন নাজিমের মতো পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা ইঙ্গিত দেয় যে, যুবদল এবার কেবল রাজপথের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সামাজিক ও জনসেবামূলক কাজেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ এবং মৎস্য ও পশুপালন সম্পাদক শাহজাহান রনিসহ অন্যান্য সম্পাদকদের জন্য এখন সময় মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার।

দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রচার সম্পাদক আল মেহেদী তালুকদার এবং তার সহকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। দলীয় প্রধানের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এবং সরকারি দলের রাজনৈতিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদল কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা এই কমিটির কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করছে। কমিটির অনুমোদনের পর থেকে সাধারণ নেতাকর্মীরা এখন রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান শুনছেন। সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদল সরকারবিরোধী আন্দোলনে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে—এমন স্বপ্ন দেখছেন নেতাকর্মীরা।

পরিশেষে, কোনো রাজনৈতিক দলের সাফল্যের জন্য সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্বের স্বচ্ছতা অপরিহার্য। যুবদলের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক জোরালো হচ্ছে, তখন এই ১৫১ সদস্যের দলটিকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি গঠনমূলক রাজনৈতিক কর্মসূচি হাতে নিলে যুবদল আরও বেশি জনসমর্থন অর্জন করতে পারবে। আমরা আশা করব, এই নতুন নেতৃত্ব কেবল পদ-পদবি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে না, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেবে। নবগঠিত এই কমিটির প্রতিটি সদস্য তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে শতভাগ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করবেন, এটাই প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত