সর্বশেষ :
লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নূরুল আমিন নাইট উপাধিতে ভূষিত ইদ্রিস এলবা: মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল লেবাননে হামলা বন্ধের ডাক আইআরজিসির ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ড: ভস্মীভূত ৫০ দোকান, পথে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে ফেরার ইঙ্গিত: বড় উত্থানে সপ্তাহের লেনদেন উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস: প্রকৃতির সুরক্ষায় আজ অঙ্গীকারের দিন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার
বিশ্ব পরিবেশ দিবস: প্রকৃতির সুরক্ষায় আজ অঙ্গীকারের দিন

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে যখন জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দিবসটির গুরুত্ব যেন আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। মানুষের অস্তিত্ব এবং প্রকৃতির সুরক্ষার মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক নতুন করে অনুধাবনের দিন আজ। বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের আহ্বানে ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বৈশ্বিক যাত্রা আজ এক শক্তিশালী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ১০০টিরও বেশি দেশে কোটি কোটি মানুষ আজ তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার শপথ গ্রহণ করছে। আমাদের আজকের পৃথিবীর প্রতিটি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে আগামী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীটা কতটা বাসযোগ্য থাকবে।

১৯৭২ সালে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সেই মানবিক পরিবেশ সম্মেলনের পথ ধরেই এই দিবসের সূচনা। ৫ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত চলা সেই সম্মেলনের মাধ্যমেই বিশ্ব নেতৃত্ব প্রথমবারের মতো পরিবেশ রক্ষার সম্মিলিত প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল। এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’। এই প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পরিবেশ কেবল মানুষের ভোগের কোনো উপাদান নয়, বরং প্রকৃতিই আমাদের জীবনধারণের মূল উৎস। যদি আমরা প্রকৃতিকে রক্ষা করতে না পারি, তবে জলবায়ুর চরম প্রতিকূলতা থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব পরিবেশ দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। প্রতি বছর নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অকাল বন্যা এবং তাপপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে এদেশের মানুষ। সরকারের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতা এখন সময়ের দাবি। টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজায়নের পথে হাঁটাই এখন আমাদের একমাত্র পথ। গাছ লাগানো, প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা, জলাশয় রক্ষা করা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর মতো ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা দেশবাসীকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রকৃতির প্রতি আমাদের যে অবহেলা, তা দূর করতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে পারিবারিক আঙিনায় গাছের চারা রোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং পরিবেশ দূষণকারী শিল্প কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এখন অপরিহার্য। পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখা সাময়িক হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা ধ্বংস ডেকে আনে। আমাদের কৃষিবান্ধব অর্থনীতি এবং উপকূলীয় জনপদ রক্ষা করতে হলে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি, বরফ গলার হার, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির তালিকা—এই সবকিছুই আমাদের বলছে সময় ফুরিয়ে আসছে। আমরা যদি আজ প্রকৃতি থেকে প্রেরণা গ্রহণ না করি, তবে আগামী দিনগুলোতে জলবায়ু সংকটের ভয়াবহতা আমাদের অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলবে। প্রকৃতির প্রতিশোধ থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রকৃতির সাথেই মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। আজকের এই দিনে প্রতিটি নাগরিকের অঙ্গীকার হোক—আমরা একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলব। প্রতিটি গাছের চারা হোক আমাদের আগামীর প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতীক। নদী, বন ও পাহাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই আমরা নিশ্চিত করতে পারি আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ আজ নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে। কোথাও চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কোথাওবা নতুন করে বনসৃজন। বাংলাদেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোও নানা আয়োজনে অংশ নিয়েছে। যদিও দিবস কেন্দ্রিক আলোচনা এক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরের প্রতিটি দিন পরিবেশের প্রতি যত্নশীল থাকা জরুরি। কারণ, পৃথিবী আমাদের একমাত্র আবাসস্থল। আর এই আবাসকে সুন্দর রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, প্রকৃতির সুরক্ষায় আজ আমরা নতুন করে শপথ নিই, যাতে পৃথিবীটা তার নিজস্ব গতিতে সব প্রাণের আশ্রয়স্থল হয়ে টিকে থাকে। আমাদের ভবিষ্যতের জন্যই আজ প্রকৃতির প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ মমতা ও যত্ন নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত